আজ পহেলা বৈশাখ : নব প্রাণের উৎসবে নতুন বছর ১৪৩৩–কে বরণ
পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি আর শোককে পেছনে ফেলে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায় শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন—পহেলা বৈশাখ। হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাস ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই উৎসব আজ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছে কোটি বাঙালি।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় বৈশাখকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অতীতের ব্যর্থতা ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখায় এই দিনটি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখকে বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে এ উৎসবের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তিনি জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আজ থেকেই কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড' প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন পরবর্তী নতুন গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে যে কর্মসূচিগুলো হাতে নিয়েছে, তা নতুন বছরে আরও গতিশীল হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে চলছে বর্ণিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ভোরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত সুরের মূর্ছনায় নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।
গ্রামবাংলায় বৈশাখী মেলা, বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হালখাতার আয়োজনে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বৈশাখের এই রুদ্র তেজে সব সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য মুছে গিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাধারণ মানুষ। নববর্ষের এই আনন্দধারা পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে, যা বাঙালির চিরন্তন ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: