৫ হাজার কোটি টাকার ফসলের স্বপ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে সোনালি ধানের মহোৎসব
দিগন্তজোড়া হাওর এখন সোনালি রঙে মোড়া। খেতের পর খেত পেকে ওঠা বোরো ধানের শিষ হাওরের বাতাসে দুলছে অপরূপ ছন্দে। কোথাও চলছে ধান কাটার ব্যস্ততা, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রকৃতি সহায় থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর এলাকাতেই রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সব ধান সুচারুভাবে ঘরে তুলতে পারলে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার জগন্নাথপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে জেলাজুড়ে পুরোদমে ধান কাটার মহোৎসব শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
যদিও মৌসুমের শুরুতে গত মার্চ মাসে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ৩ হাজার ৩১০ হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেই ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন চাষিরা। শাল্লা উপজেলার মনুয়া গ্রামের কৃষক নূর উদ্দিন জানান, উচ্চফলনশীল জাতের ধানে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে শিলাবৃষ্টির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই মুহূর্তে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। অনেক এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে দেশি ও হাইব্রিড জাতের ধান বিচ্ছিন্নভাবে কাটা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া যাবে। প্রকৃতির অনুকম্পা আর কৃষকের শ্রমে ভর করে হাওরের এই সোনালি স্বপ্ন এখন বাস্তবতার দোরগোড়ায়। ধান কাটা শেষ হলে সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরবে—এমনটাই প্রত্যাশা হাওরবাসীর।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: