সাংস্কৃতিক কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ
সুনামগঞ্জে উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত পৃথক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে সাংস্কৃতিক চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সুনামগঞ্জ জেলা সংসদ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযোগ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উদীচী জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও তারা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিল। এ লক্ষে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য আগে জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। উদীচী নেতারা এই শর্তকে অযৌক্তিক ও নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে শহরের বিভিন্ন বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, শহরের কোথাও পৃথকভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
উদীচী জেলা সংসদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মুক্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিপন্থী এবং এটি হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। তারা অবিলম্বে এই 'অঘোষিত' নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিকল্প উপায়ে মানুষের মধ্যে নববর্ষের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, উদীচীর অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি। যেহেতু সরকারিভাবে সকল সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে একটি কেন্দ্রীয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে এবং সেখানে উদীচীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাই একই সময়ে আলাদা অনুষ্ঠানের অনুমোদনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও জানান, সরকারি সমন্বিত আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উদীচী নেতারা প্রশাসনের এই যুক্তি মানতে নারাজ, যার ফলে বিষয়টি নিয়ে জেলা শহরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: