মৌলভীবাজারে ৩ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প এখন গলার কাঁটা
Led Bottom Ad

১০ বছর ধরে অচল দুটি স্লুইস গেট

মৌলভীবাজারে ৩ কোটি টাকার সেচ প্রকল্প এখন গলার কাঁটা

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজনগর

২৫/০৪/২০২৬ ০৯:৫৫:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রশাসনের তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে একটি বড় সেচ প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চাষাবাদ বাড়ানোর লক্ষ্যে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি স্লুইস গেট গত ১০ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকায় স্থানীয় কৃষকদের কোনো কাজেই আসছে না। উল্টো সেচের পানির জন্য প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা খরচ করে মাটির বিকল্প বাঁধ দিতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বড়দল ও চাঁনভাগ এলাকায় ধামাইছড়ার ওপর এই গেট দুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি সমিতির কাছে গেটগুলো হস্তান্তর করা হলেও এক মৌসুমেও এর সুফল পাননি কৃষকরা। ২০১৬ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলে বড়দল এলাকার গেটের দক্ষিণ পাড় ভেঙে যায় এবং পানির চাপে পার্শ্ববর্তী টিলা ধসে পড়ে। এরপর থেকে পাহাড়ি ছড়াটি গেটের নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে নতুন পথ তৈরি করে নিয়েছে। একই দশা হয়েছে চাঁনভাগ এলাকার গেটটিরও।

বড়দল গ্রামের কৃষক নিয়ামত মিয়া ও অনিক দাস জানান, স্লুইস গেট কার্যকর না থাকায় প্রতি বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে অস্থায়ী মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকে তাদের চাষাবাদ করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটগুলো অচল পড়ে থাকায় পানি সরবরাহের জন্য স্থাপিত পাইপগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। উত্তরভাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ্ শাহিদুজ্জামান ছালিক বলেন, “এই প্রকল্প এলাকার কৃষকদের জন্য এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানিসম্পদ উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিকের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গেট দুটি। বারবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি। তবে রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল গনী জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং গেটগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই স্লুইস গেট দুটি সচল করা হলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার একর জমি সহজে সেচ সুবিধার আওতায় আসবে এবং এলাকার বিশাল পতিত জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad