কম পাওয়া চাল ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
শ্রীমঙ্গলে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারের বিশেষ ভিজিএফের (ভার্নারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি ও তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। চাল বিতরণে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি রবিবার (২৪ মে) দুপুরে সরেজমিনে সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানে দায়িত্বরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), সরকারি ট্যাগ অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি ও জবাবদিহিমূলক বৈঠক করেন। ওই জরুরি বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোর নির্দেশনা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সরকারি নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে যে সমস্ত গরিব ও দুস্থ উপকারভোগী ওজনে কম চাল পেয়েছেন, তাঁদেরকে অবিলম্বে নিজ নিজ দায়িত্বে দ্রুত খবর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এনে তাঁদের প্রাপ্য চালের বকেয়া অংশ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং এ বিষয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার ঘটনাটি জানার পরপরই আমি সরাসরি সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি এবং সেখানে ট্যাগ অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে নির্দেশ দিয়েছি— যারা ওজনে কম পেয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন তাঁদের ডেকে সঠিক ওজনে চাল নিশ্চিত করা হয়; পাশাপাশি ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে, উপজেলা খাদ্য গুদাম বা খাদ্য অফিস থেকে যদি চাল সরবরাহের সময়ই ওজনে কম দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে লিখিতভাবে বিষয়টি আমাদের দ্রুত জানাতে হবে, তদন্ত সাপেক্ষে সেখানেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় অনেক অসহায় মানুষকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ওজনে বেশ কম চাল দেওয়া হচ্ছিল, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়; তবে গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তৎপরতায় সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাধারণ দরিদ্র উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: