হবিগঞ্জে পুলিশ সদস্যকে কামড়ে দিয়ে মাদক মামলার আসামির পলায়ন

বিপুল টাকা ও ইয়াবাসহ সহোদর ভাই গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জে পুলিশ সদস্যকে কামড়ে দিয়ে মাদক মামলার আসামির পলায়ন

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৩/০৬/২০২৬ ২১:০৪:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি এলাকায় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এক কনস্টেবলকে দাঁত দিয়ে কামড়ে রক্তাক্ত ও জখম করে হাতেনাতে আটক হওয়া মাদক মামলার এক দুর্ধর্ষ আসামি কৌশলে পালিয়ে গেছে; গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত মোড়াকরি গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও ধস্তাধস্তির ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের খাঁচা থেকে কামড় দিয়ে নাটকীয়ভাবে পালিয়ে যাওয়া ওই মাদক কারবারির নাম আরশ মিয়া (৩৪); সে লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই চারটি সুনির্দিষ্ট মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে এই শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযানের সময় আরশ মিয়ার আপন সহোদর ভাই ও মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মজনু মিয়াকে (৩৬) ৩৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৬ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

লাখাই থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মোড়াকরি গ্রামে ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি বড় চালান বেচাকেনা ও হস্তান্তর হওয়ার গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে লাখাই থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযানে যায়। অভিযান পরিচালনাকালে মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে মূল আসামি আরশ মিয়াকে ঝাপটে ধরে আটক করার চেষ্টা করেন অভিযানে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আসাদুজ্জামান; এ সময় নিজেকে মুক্ত করতে আসামি আরশ মিয়ার সাথে পুলিশ সদস্যের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে কুখ্যাত মাদক কারবারি আরশ মিয়া কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের বাম হাতে সজোরে কামড় বসিয়ে দেয় এবং কামড়ের তীব্র যন্ত্রণায় পুলিশ সদস্যের বাঁধন আলগা হওয়ার সুযোগে সে মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারের মাঝে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়; তবে পুলিশ দল অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখে তার ভাই মজনু মিয়াকে ৩৩ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির বিপুল নগদ টাকাসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এই ঝটিকা অভিযানে সফলভাবে নেতৃত্ব দেওয়া লাখাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু কাউছার গতকাল রাতে স্থানীয় গণমাধ্যমকে অভিযানের পুরো বিবরণ দিয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছেন; তিনি জানান, আসামির কামড়ে বাম হাতে গুরুতর আহত হওয়া কনস্টেবল আসাদুজ্জামানকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ অবস্থায় রাতেই পুনরায় থানায় ফিরে এসেছেন। লাখাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র এই চাঞ্চল্যকর মাদক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পলাতক আরশ মিয়া ও গ্রেপ্তারকৃত মজনু মিয়া— এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সিন্ডিকেট করে একসঙ্গে বড় ধরনের মাদক কারবারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া আরশ মিয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকেই থানায় চারটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এই দুই মাদক কারবারি ভাইয়ের বিরুদ্ধে লাখাই থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পেনাল কোডে নতুন করে আরও একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং মাদক চোরাচালানের আড়ালে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ ৬ লাখ টাকার উৎসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে; একই সাথে কামড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ধূর্ত আসামি আরশ মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম এলাকায় রাতভর চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে এবং দ্রুতই তাকে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”


স্বপন রবি দাস/এআর

মন্তব্য করুন: