কুড়াউড়ায় বড়দের বিরোধে জীবন বিপন্ন ৩ মাস বয়সী অলিদের

মায়ের বুকের দুধের অপেক্ষায়

কুড়াউড়ায় বড়দের বিরোধে জীবন বিপন্ন ৩ মাস বয়সী অলিদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

০৫/০৬/২০২৬ ১৭:৪৭:৩৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

যে বয়সে একটি শিশুর পৃথিবীজুড়ে থাকে কেবল মায়ের বুকের উষ্ণতা, পরম স্নেহ আর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন মায়ের বুকের দুধ; সেই বয়সেই মাতৃত্বের সবটুকু অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে দিন কাটছে তিন মাসের এক অবুঝ শিশুর। শিশুটির নাম খালেদ ইবনে অলিদ। সে বোঝে না পারিবারিক বিরোধ কী, জানে না অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মানে, কিংবা বোঝে না আইনি লড়াইয়ের জটিল ভাষা। কিন্তু বড়দের অহংকার আর দ্বন্দের এক নিষ্ঠুর বলী হতে হয়েছে তাকে। মায়ের সান্নিধ্যহীন এক চিলতে ঘরে ক্ষুধার্ত কান্নাই এখন তার নিত্যদিনের সঙ্গী।


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের লুনা গ্রামের এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মায়ের দুধের জন্য ছটফট করছে তিন মাসের ছোট্ট অলিদ। মায়ের স্নেহ থেকে বিচ্ছিন্ন এই নিষ্পাপ শিশুর করুণ অবস্থা দেখে নেটিজেনসহ স্থানীয় মানুষের চোখ ভিজে উঠেছে অশ্রুতে।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথিবীর আলো দেখে অলিদ। কিন্তু জন্মের পর থেকেই শুরু হয় তার জীবনসংগ্রাম। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে তাকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হয়েছে। কুলাউড়া, মৌলভীবাজার এবং সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা শেষে অবশেষে সুস্থ হয়ে মায়ের কোলে ফিরেছিল সে। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি, হাসপাতালের কঠিন লড়াইয়ে জয়ী হওয়া শিশুটিকে তার নিজের ঘরেই এমন এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।


স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার তীব্র বিরোধের জেরে বর্তমানে মায়ের কোল থেকে দূরে রয়েছে অলিদ। একদিকে মায়ের বুক খালি করে চাতকের মতো চেয়ে থাকা তৃষ্ণার্ত চোখ, অন্যদিকে বাবার কোলজুড়ে থাকা শূন্যতা—সব মিলিয়ে দুই পরিবারের মধ্যকার জেদ আর অহংকারের মাঝে চাপা পড়ে গেছে একটি শিশুর জীবন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।


চিকিৎসকদের মতে, এই বয়সে মায়ের বুকের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। মায়ের সান্নিধ্য না পেলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


অলিদের এই করুণ পরিস্থিতি দেখে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং প্রতিবেশীদের দাবি, বড়দের মাঝে যেকোনো বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার খেসারত কেন একটি তিন মাসের শিশুকে দিতে হবে?


নিষ্পাপ এই শিশুটির জীবনের সুরক্ষায় এবং তার মুখে মায়ের দুধ ফিরিয়ে দিতে দুটি পরিবারই যেন আইনি ও সামাজিক ইগো ভুলে দ্রুত একটি মানবিক সমাধানে পৌঁছায়—এখন এটাই কুলাউড়াবাসীর একমাত্র আকুতি। পৃথিবীর সমস্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে অলিদ আবার ফিরে পাক তার মায়ের উষ্ণ কোল, শান্ত হোক তার ক্ষুধার্ত কান্না।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: