হবিগঞ্জে পিআইওর বিরুদ্ধে প্রকল্পের কাজ নিজেই করার অভিযোগ

বদলি ঠেকাতে ‘দৌড়ঝাঁপ’

হবিগঞ্জে পিআইওর বিরুদ্ধে প্রকল্পের কাজ নিজেই করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৮/০৬/২০২৬ ১৩:৪০:৩১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রকল্পের কাজ তদারকি করার দায়িত্ব যাঁর, তাঁর বিরুদ্ধেই নিজেই কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নূর মামুনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রকল্প সভাপতি ও সম্পাদকদের শুধু কাগজে-কলমে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, বাকি কাজ পিআইও তাঁর লোকজন দিয়ে করান।


এদিকে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও নূর মামুন প্রায় চার বছর ধরে মাধবপুরে আছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁকে বদলি করা হলেও তদবির করে গত মে মাসে সেই বদলি স্থগিত করিয়েছেন তিনি।


মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সেলিম মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসের রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের সম্পাদক করা হয়েছিল আমাকে। কিন্তু আমি এর কিছুই জানি না। শুধু জানি, রাস্তা সংস্কারের জন্য ৫ লাখ এবং সামনের অংশ ঢালাইয়ের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। পিআইও তাঁর অফিসের লোকজন নিয়ে নিজেই কাজ করেছেন। ঢালাইয়ে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। তাঁরা নিজেরাই তো প্রকল্পের কাজ করেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর দিই।’


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের আগস্টে মাধবপুরে যোগদান করেন পিআইও মো. নূর মামুন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুকৌশলে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে তদবির শুরু করেন এবং গত ৭ মে বদলি আদেশ স্থগিত করান।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলার পিআইও মো. নূর মামুন বলেন, ‘২০২২ সালে এখানে যোগ দিয়েছিলাম। গত ডিসেম্বরে বদলি হলেও স্ত্রী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার সুবিধার্থে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিইনি। গত ৭ মে বদলি স্থগিত হয়েছে। তবে খুব শিগগির আমি বদলি হয়ে চলে যাব।’ প্রকল্পের কাজে অনিয়মের কথা তুলতেই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।


এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘পিআইও সরাসরি আমাদের অধীনে কাজ করেন না, তাঁরা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের অধীন। গত ডিসেম্বরে তাঁর বদলির কাগজ পেয়েছিলাম, কিন্তু বদলি যে স্থগিত হয়েছে তা আমার জানা নেই। তাঁকে কার্যভার বুঝিয়ে দেওয়ার (ছাড়পত্র) জন্য বলেছি।’ অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘কাজটি নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা তিন ধাপে ছবি তুলে ও পরিদর্শন প্রতিবেদন দেখে আমরা বিল পাস করি। কিন্তু কাজ কাকে দিয়ে করানো হচ্ছে, তা পিআইও আমাদের অবগত করেন না। ফলে তা আমার জানার কথা নয়।’


জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পিআইও নূর মামুনের বদলি গত মে মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থগিত করেছে। চার বছর ধরে একই কর্মস্থলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি আমি বলতে পারব না। কর্তৃপক্ষ চাইলে রাখতে পারে।’

ফয়সল চৌধুরী / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: