সিলেটসহ বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি ১০ শয্যায় ১ চিকিৎসক বাধ্যতামূলক

সিলেটসহ বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি ১০ শয্যায় ১ চিকিৎসক বাধ্যতামূলক

প্রথম ডেস্ক

০৫/০৭/২০২৬ ১৫:০৮:০৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটসহ দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে, প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে; অর্থাৎ ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে ন্যূনতম পাঁচজন মেডিকেল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নিয়মিত ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে বিএমডিসি নিবন্ধনের সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে হবে। হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না, তা দেখতে নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা পর্যায়ের এই মনিটরিং কার্যক্রমের সামগ্রিক সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা ইতিমধ্যে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো দীর্ঘদিনের অনৈতিক প্রবণতা ও অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।

তানজুমা তাবাসসুম

মন্তব্য করুন: