পথে বসল ৭ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার
ফেঞ্চুগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৭ দোকান পুড়ে ছাই
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিয়ালী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এতে স্থাপনা ও দোকানের মালামালসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাতটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার, যাদের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এসব দোকান।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ততক্ষণে দোকানগুলোর ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ লিডার শফিকুল ইসলাম শনিবার (১১ জুলাই) প্রথম সিলেটকে জানান, রাত ৩টা ২০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৩টা ৪০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে টিনশেডের কাঁচাপাকা মার্কেটটির সাতটি দোকানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা, কিন্তু দোকান মালিকদের তথ্যে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি বলে জানান তিনি।
তবে স্থাপনার মালিক মো. মাসুক মিয়া বলেন, আগুনে শুধু দোকানের মালামালই নয়, পুরো ভবনের কাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেয়ালগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থাপনাটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন-মোঃ জামাল হোসেন (নিহা ভেরাইটিজ স্টোর), নিত্যময় চন্দ (মা লাইব্রেরি অ্যান্ড কসমেটিকস), মো. মামুন আহমদ (অল্প কম্পিউটার), আমজা মিয়া (ভেরাইটিজ স্টোর), শিশির দেবনাথ (স্টুডেন্ট লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারি), প্রভাত দাস (মা ইলেকট্রনিকস) এবং বিপ্লব কুমার দেবনাথ (উর্মি স্টোর)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ী মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ও ঋণের অর্থ দিয়ে তারা ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন। আগুনে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক বিপ্লব কুমার দেবনাথ জানান, এই মার্কেটে তারা দুই ভাই ব্যবসা করেন, অপর ভাইয়ের নাম শিশির দেবনাথ। পরিবারে আহার যোগানোর একমাত্র সম্বল ছিল তাদের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের দোকানে থাকা পণ্য, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জামসহ আনুমানিক ২২ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ফেঞ্চুগঞ্জে সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে ওইদিন ফেঞ্চুগঞ্জে ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কারো সাথে দেখা হয়নি, তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যবসায়ীদের সাধ্যমতো সহযোগিতার কথা এ প্রতিবেদককে জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন। তারা ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকার, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক সংগঠনের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত সহায়তা না পেলে সাতটি পরিবারের জীবিকা পুনর্গঠন কঠিন হয়ে পড়বে।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: