রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা ঘিরে সিলেট বিএনপিতে ফাটলের গুঞ্জন

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা ঘিরে সিলেট বিএনপিতে ফাটলের গুঞ্জন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১৯/০৯/২০২৬ ১২:৩৬:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা ঘিরে সিলেট বিএনপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজিত সংবর্ধনায় মহানগর বিএনপির সভাপতি নাছিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর অনুপস্থিতি এ আলোচনাকে আরো জোরালো করেছে।

মহানগর বিএনপির অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে এককভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং সমন্বয়হীনতার কারণেই তারা সংবর্ধনায় অংশ নেননি।

নাছিম হোসাইন অভিযোগ করেন, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এককভাবে সংবর্ধনার পরিকল্পনা ও আয়োজন করেছেন। মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকে যথাযথভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এমনকি অনেকে আমন্ত্রণপত্রও পাননি বলে দাবি তার।

একই অভিযোগের কথা জানান মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তার ভাষ্য, সিসিক প্রশাসকের একক নিয়ন্ত্রণের কারণে তাদের মনে হয়েছে, আয়োজনে মহানগর বিএনপিকে চাওয়া হয়নি।

এ কারণেই তারা সংবর্ধনা থেকে দূরে ছিলেন। তবে মহানগর বিএনপির এসব অভিযোগ মানতে নারাজ সিসিক প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তার দাবি, এটি কোনো দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না; বরং দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

মহানগর বিএনপির পুরো কমিটি, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত কার্ডও রাখা হয়েছিল বলে দাবি তার।

এদিকে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জি কে গউছ বলেন, রাষ্ট্রপতির কোনো কর্মসূচি বিএনপি বর্জন করেনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বসার ব্যবস্থা নিয়ে অসুবিধা থাকায় কেউ কেউ সেখানে যাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হোক, সেটি কাম্য নয় বলেও জানান তিনি।

এর আগে ২৫ আগস্ট সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও বিশেষ অতিথি হিসেবে নির্ধারিত থাকা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উপস্থিত না থাকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনায় কারা ছিলেন, আর কারা ছিলেন না- এ নিয়েও নতুন করে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যেই সামনে এসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন। মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মিফতাহ সিদ্দিকী, নাছিম হোসাইন, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী ও বদরুজ্জামান সেলিমের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপি এখনো কাউকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেনি।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা থাকলেও নিজেদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই বলে দাবি করেছেন নেতারা। 

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, সিটি নির্বাচনে তিনি নিজেও প্রার্থী। আরও সিনিয়র নেতারাও প্রার্থী রয়েছেন। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই সবাই থাকবেন।

মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর বক্তব্যও একই ধরনের। তিনি বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলই নেবে এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ফলে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা ঘিরে মহানগর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি এবং সিটি নির্বাচন সামনে রেখে একাধিক নেতার সম্ভাব্য প্রার্থিতা- দুই বিষয় মিলিয়ে সিলেট বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা আরো জোরালো হয়েছে। তবে নেতারা প্রকাশ্যে দলীয় বিভক্তির কথা অস্বীকার করছেন।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad