ধর্মপাশায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া দুইজনের লাশ উদ্ধার
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় পাত্রী দেখতে গিয়ে ধারাম হাওরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজের ২৪ঘন্টা পর ঘটক শামছু মিয়া (৫৫) এবং ২৯ ঘন্টা পর ইসরাত জাহানের (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১১ টায় উপজেলার ধারম হাওরের মাগুরিয়া নামক স্থানে থেকে শামছু মিয়া (৫৫) এবং একই স্থানের কিছুটার দুর থেকে ইসরাত জাহানের (৭) লাশ খুঁজে পায় স্থানীয় এলাকা বাসী, প্রশাসন ও দমকল বাহিনীর (ফায়ার সার্ভিস) কর্মীগন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের ট্রলার ঘাট থেকে একটি ইঞ্জিন চালিত ডিঙ্গি নৌকার মাধ্যমে চালকসহ ৭জন যাত্রী জয়শ্রী ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে পাত্রী দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো। পরে পথিমধ্যে নৌকাটি হাওরে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পরে এবং বাতাসের তীব্রতায় ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও হাওরে থাকা জেলেরা এগিয়ে এসে নৌকার চালকসহ ৭জন যাত্রীর মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করে।
আর ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে ঘটক শামছু মিয়া (৫৫) ও কান্দাপাড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ইসরাত জাহান (৭) এই দুইজন যাত্রী পানির নিচে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার ধারাম হাওরে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ৫ জনের মধ্যে দুজনকে মূমুর্ষূ অবস্থায় ধর্মপাশা উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ খবর পেয়ে ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, দমকল বাহিনী (ফায়ার সার্ভিস) সহ ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ করে।
এছাড়া ওইদিন বিকাল ৪ টায় ময়মনসিংহ দমকল বাহিনীর (ফায়ার সার্ভিস) দুইজন ডুবুরী সদস্য এসে হাওরের পানিতে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এ উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) পুনায় প্রশাসন, দমকল বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অনেক খোঁজাখুঁজি করে দুপুর ১১টায় উপজেলার ধারম হাওরের মাগুরিয়া নামক স্থানে থেকে শামছু মিয়া (৫৫) এবং একই স্থানের কিছুটা দুর থেকে ইসরাত জাহানের (৭) লাশ খুঁজে পায়।
এ সময় সাথে ছিলেন, ধর্মপাশা থানার ওসি এনামুল হক, ডিএসবির নিয়ামুল হাসান ও দমকলবাহিনীর লিয়াকত আলীসহ অন্যান্যরা। তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজন হারানো ভাঙ্গা কান্নার শব্দে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতাম।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: