৯ মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে ৯৩১ কোটি টাকার পণ্যসহ গ্রেফতার ৩০৫ জন
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইলের আওতাধীন সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯২ টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী জব্দ করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু-পাথরও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০৫ জনকে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির। সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ১৩টি ব্যাটালিয়নের সার্বিক অভিযানের চিত্র তুলে ধরে তিনি এসব তথ্য জানান।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সরাইল রিজিয়নের অধীনে প্রায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও শ্রীমঙ্গল সেক্টরের আওতায় থাকা ১৩টি ব্যাটালিয়নের ২১১টি বিওপি সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারি করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযান এবং নিয়মিত তল্লাশির মাধ্যমে এসব অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়।
অভিযানগুলোর মধ্যে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। গত নয় মাসে ১১টি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন, ৭টি এয়ার গান, ৫টি পাইপ গান ও ৬২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছে বিজিবি।
এ ছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর ও ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার জব্দ করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৯১০ পিস ইয়াবা, ১৩ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ৬২ হাজার ৬৭৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার এবং ১৫ হাজার ৫৮১ বোতল ফেনসিডিল ও ইস্কাফ সিরাপ। একই সময়ে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ পিস যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ১৬৯ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৩০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধেও অভিযান চালিয়েছে বিজিবি। ময়মনসিংহ ও সিলেট সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ৯০০ ঘনফুট পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রমের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বন্যার মতো দুর্যোগে দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দুর্গম এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জরুরি ত্রাণ সরবরাহের কথা জানানো হয়।
চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানায় বিজিবি। সিলেট সেক্টরের আওতায় এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: