হবিগঞ্জে ফের মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, বাড়ছে আতঙ্ক

হবিগঞ্জে ফের মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ, বাড়ছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, বানিয়াচং

৩০/০৯/২০২৬ ১৯:০৯:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে একের পর এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া কিংবা মাদ্রাসায় যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আর খোঁজ না পাওয়ার ঘটনায় তাদের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাবিয়া তাবাস্সুম মীম ও ১৫ বছর বয়সী রাকিবুল হাসান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যায় ফাবিয়া তাবাস্সুম মীম। মাদ্রাসার ছুটির পর অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও মীম আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে তার বই-খাতা ও ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। তবে সেখানে মীমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মীম বানিয়াচং উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল হিকমাহ তালীমুল কুরআন একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বানিয়াচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। স্থানীয়ভাবে মাইকিং করার পাশাপাশি মীমের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী। কিন্তু নিখোঁজের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে মীমের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

এদিকে, একই উপজেলার ১৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের রাকিবুল হাসান (১৫) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং নোয়াগাঁও হাজিফিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাকিবুল। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সে মাদ্রাসায় পৌঁছায়নি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।

দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, মীম ও রাকিবুলের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি হওয়ার পর থেকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছে। তাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দেশের সব থানায় এ বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

একই উপজেলায় পরপর দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা, মাদ্রাসায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থী বাড়িতে না ফিরলে দ্রুত অভিভাবকদের অবহিত করার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীকে দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তাদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad