অযত্ন-অবহেলায় বাহুবলের ফয়জাবাদ বধ্যভূমি

অযত্ন-অবহেলায় বাহুবলের ফয়জাবাদ বধ্যভূমি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাহুবল

৩০/০৯/২০২৬ ১২:১৮:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের বাহুবলের ফয়জাবাদ বধ্যভূমি পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। টিলাঘেঁষা এ বধ্যভূমির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেলেও সংস্কার কিংবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেই। ঝোপ-ঝাড়ে ঢেকে যাচ্ছে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা না থাকায় পুরো এলাকা পরিণত হয় অন্ধকার ও নির্জন স্থানে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত হলেই সেখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় অনেকটা নির্বিঘ্নেই চলে মাদক সেবন। এতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটির পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দেখা গেছে, বাহুবল উপজেলার শেষ প্রান্তে ঢাকা-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার সড়কের পাশে আমতলী চা-বাগানের ৪ নম্বর সেকশনের একটি টিলার ওপর ফয়জাবাদ বধ্যভূমির অবস্থান। উপজেলার মিরপুর বাজার থেকে কিছুদূর এগিয়ে জ্বালানি তেল শোধনাগারের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে টিলায় ওঠার সিঁড়ি রয়েছে।

চারপাশ টিলা ও গাছপালায় ঘেরা বধ্যভূমিটির বিভিন্ন স্থানে গজিয়েছে ঝোপ-ঝাড়। টিলায় ওঠার সিঁড়ির কয়েকটি অংশের রেলিং নেই। কোথাও রেলিং থাকলেও এখন নেই। বধ্যভূমির স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ও টাইলস ভেঙে পড়ে আছে। নেই পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা। ফলে সন্ধ্যার পর স্থানটি কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়।

স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যে আমতলী চা বাগান কর্তৃপক্ষ ঝোপঝাড় পরিষ্কার করলেও বধ্যভূমিটির স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। ফলে বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাটি।

স্থানীয় বাসিন্দা কাওছার মিয়া ও হেলাল বলেন, প্রায় প্রতিরাতেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। তারা নির্ভয়ে সেখানে মাদক সেবন করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে নিয়মিত নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকা জরুরি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাহুবল উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য বাঙালি নারী-পুরুষকে এই এলাকায় এনে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার পর ২০০৬ সালে সরকার বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে টিলায় ওঠার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের স্থানটিতে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিচিহ্ন। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান বধ্যভূমিটির উদ্বোধন করেন।

এরপর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এখানে নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও আসেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাবে ধীরে ধীরে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রদীপ প্রজ্বালনের মতো কর্মসূচি পালিত হলেও বছরের অধিকাংশ সময়ই পড়ে থাকে নীরব-নির্জন।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, বধ্যভূমিটি রক্ষণাবেক্ষণে নির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ কিংবা নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামো নেই। রাতে সেখানে মাদকসেবীদের উপস্থিতির কারণে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগের ইউএনওরা মেরামতের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মেরামত করলেও আবার মাদকসেবীসহ অন্যরা সেগুলো নষ্ট করে বা খুলে নিয়ে যায়।

ইউএনও বলেন, এ ধরনের বধ্যভূমিতে নিয়মিত পাহারার জন্য নাইট গার্ডের ব্যবস্থা নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো যায়। বধ্যভূমিটি কীভাবে সংরক্ষণ ও নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়টি আমরা দেখব।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস তুলে ধরতে ফয়জাবাদ বধ্যভূমির সংস্কার, আলোকসজ্জা, সীমানা সুরক্ষা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad