হবিগঞ্জে সড়ক সংস্কারে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হবিগঞ্জে সড়ক সংস্কারে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২৯/১০/২০২৬ ১৩:৫৭:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ-মার্কুলী সড়ক সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দ করা ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংস্কারকাজে সরকারি অর্থ ব্যয় দেখালেও বাস্তবে সড়কের কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারও মানুষকে। এ ঘটনায় প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ-ইনাতগঞ্জ-মার্কুলী সড়কটি এই অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এরই মধ্যে সড়ক সংস্কারে ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি সামনে আসায় প্রকল্পের কাজের মান ও অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩২ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পটি গত নির্বাচনের আগে গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে প্রকল্পের কাজের পরিমাণ, ব্যয়ের বিবরণ এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এদিকে সড়ক সংস্কারের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রকল্পের প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, পরিমাপ বই ও বিল-ভাউচারসহ সব দাপ্তরিক নথি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, নবীগঞ্জের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের দায়িত্বকালীন সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছিল। তাই এই প্রকল্পে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তারা। তবে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, দাপ্তরিক নথিতে সরাসরি অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সড়কের বেহাল অবস্থা ও সংস্কারকাজে অনিয়মের প্রতিবাদে এর আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, খরচের বিস্তারিত হিসাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad