শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়ানো ও ‘র’ সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বলেছিলেন তাহসিফ

শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়ানো ও ‘র’ সম্পৃক্ততা নিয়ে যা বলেছিলেন তাহসিফ

প্রথম ডেস্ক

২৯/১০/২০২৬ ১৬:১৭:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছেল। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন বিমানবাহিনীর এই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি ‘স্পিক উইথ রশিদ’ ইউটিউব চ্যানেলের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তাহসিফের মৃত্যুর পর ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কারণে তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। তবে ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেন তাহসিফ।

গত ২১ জুলাই ওই চ্যানেলে ‘মালইস্টোন ট্রাজেডি: ইনসাইড দ্য বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স’ শিরোনামে ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পাশাপাশি ভিডিও শেষ অংশে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসসহ উপস্থাপকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তাহসিফ। তিনি নিজেও মাইলস্টোন কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।

পডকাস্টে উপস্থাপক তাহসিফের কাছে জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’-এর নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার যে দাবি উঠেছিল, সেগুলো কতটা সত্য।

জবাবে তাহসিফ বলেন, ‘প্রথমত আমার মনে হয় আমার দেশ যে প্রতিবেদনটা করেছে এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে। আমি জানি না তাদের উদ্দেশ্য কী? ওখানে ক্লিয়ারলি লেখেছে তারা যে আমি ভিডিওটা ছড়িয়েছি। আমি যে শ্যুট করেছি এটাও কিন্তু তারা বলেনি। বলেছে যে রিফাত আশরাফি ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি।

তো আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি মানে হোয়াট ইজ দ্য প্রুফ দেওয়ার হ্যাভিং। আমি এটা জিজ্ঞেস করতে চাই। আর এটাও হতে পারে যে এজন্যই আমি আজকে হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।’

এরপর উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, আপনি কি আসলে মনে করেন যে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে এয়ারফোর্স থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে?

জবাবে তাহসিফ সাউরি বলেন, হতে পারে। কারণ যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল আমি সবকিছু বলবো না। বা আমারও কিছু অপারগতা আছে। আমার মনে হয় যে এই এলিগেশনের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে। আর আমার দেশের দিকে দেখেন তারা লিখেছে, আমি ভিডিও ভাইরাল করেছি কিন্তু টেমপ্লেটটা যখন বানিয়েছে “বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘র’ নেটওয়ার্ক ফাঁস”। চারজনের ছবি, ওখানে আমার ছবি।

এটা তো একদমই রেলিভেন্ট না এবং আমার কোনো কানেকটিভিটি নাই। যেহেতু মানুষ পুরা প্রতিবেদন পড়ে না। শুধু মানে হেডলাইন দিয়ে গো থ্রু করে। তো আমার আসলে এটার জন্য অনেক সোশ্যাল অ্যাম্বারেসমেন্ট হ্যারাসমেন্ট ফেস করতে হয়েছে। এই জাস্ট একটা প্রতিবেদন অর্থাৎ ভুল প্রতিবেদনের জন্য।

এরপর উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি বলছেন যে এটা হতে পারে এয়ারফোর্সের দিক থেকে আপনাকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণ, ভিডিওটা ধারণ করা। ‘র’ সম্পৃক্ততার যে ঘটনাটা সেটা আপনি ডিনাই করছেন। এখন আপনি তো অফকোর্স যদি ‘র’ সম্পৃক্ত থাকেন সেটা আমাদের বলবেন না আপনি ‘র’ সম্পৃক্ত।

জবাবে তাহসিফ সাউরি বলেন, আসলে ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে তাইলে আমি বাংলাদেশে কেন? তাই না? ‘র’ সম্পৃক্ত থাকলে আমি পাবলিকলি কথা বলছি কেন? একটা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ তো এটা না যে ঘুরে ফিরে বেড়ানো এরকম। হ্যাঁ, এটা খুবই মানে হাস্যকর একটা ক্লেইম এবং আইএসপিআরের বিবৃতি আপনি একটু পড়ে দেখবেন ওখানে ক্লিয়ারলি স্টেটমেন্ট দিয়ে দিয়েছে যে এরকম কোনো সম্পৃক্ততা আমার নেই।

এদিকে তাহসিফ ঘটনাগুলোকে এভাবে ব্যাখ্যা করলেও তার এক বন্ধু ফেসবুকে আবার দাবি করেছেন, তিনিই শেখ হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম নামের ওই ব্যক্তি নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার মরদেহ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাল বাদ আসর তার জানাজা। উত্তরায়।

গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এ ঘটনা। তার মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা মাখা। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা তবে এইটা ব্যক্তিগত কোন কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে। আমি ধরে নিব এইটা পলিটিকাল।’

ইনতিসার ইনজামাম লেখেন, Tahsif Souri আদমজী কলেজে আমার বন্ধু ছিল এবং পরবর্তীতে আমরা ৭৯ বিএমএ equivalent হিসাবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করি। ওর সাথে আমার জীবনের আদর্শ আকাশ ও পাতাল কিন্তু আমি যখনই কোন তালিম টাইপ কথা বলতাম চুপ করে শুনত। যদিও I wish he could understand better, but we all lead our lives in our way, maybe that's what got to him.

বন্ধু তাহসিফ প্রসঙ্গে ইনতিসার ইনজিমাম লেখেন, ‘৫ আগষ্ট এর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন পুলিশি কেস করতে পারে নাই। আমার জানা মতে যদিও বহুল করে হারে মানহানি করা হয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস সব কিছু সেই হাসিনার হেলিকপ্টার এর ভিডিও ফাঁস এর সাথে কানেক্টেড। কারণ ৫ই আগষ্ট এর ঘটনার আগেও ফ্যালকন এই তার ১ সপ্তাহ আগে আমার সাথে দেখা হয়, সে সাধারণ ডিউটি করছিল।’

পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad