উচ্চমাধ্যমিকে সিলেট বোর্ডের ফলাফলে বিপর্যয়, ১৩ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের চিত্রে বড় ধরনের অবনমন ঘটেছে। বোর্ডটিতে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে মেধা তালিকার শীর্ষে থাকা সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরীক্ষার এই আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস বেগম।
শিক্ষা বোর্ডের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিলেট বোর্ডের অধীনে মোট ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী।
বিগত বছরগুলোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিলেটে ধারাবাহিকভাবে পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফলাফলের সূচক নিচের দিকে নামছে। এর আগে গত ২০২৫ সালে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬০২ জন। সেই তুলনায় এবার পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
এর আগের বছরগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ।
শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, করোনা মহামারি ও পরবর্তী সময়ে বিশেষ বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মূল্যায়নের কারণে বিগত কয়েক বছর ফলাফলের হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি ও স্বাভাবিক নিয়মে মূল্যায়নের ধারায় ফেরায় ফলাফলের এই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: