ছাতকে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
Led Bottom Ad

চোরাচালানি বিরোধের রেশে উত্তেজনা চরমে

ছাতকে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

১৬/১১/২০২৫ ১৮:০১:৫৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে দুই গ্রামের চলমান বিরোধ ও চোরাচালানি অর্থ নিয়ে সংঘাতের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার গভীর রাতে লুবিয়া গ্রামে সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের নিস্তব্ধতায় ৮–১০ জনের সশস্ত্র দল মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ঘেরাও করে। ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও গবাদিপশু লুট করে হামলাকারীরা। পরে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও এক আত্মীয়। তারা জানান, হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তাদের একটি কক্ষে আটক করে।

জাহানারা বেগম বলেন, “আমাদের কিছু বলার সুযোগও দেয়নি। পরে ধোঁয়ার গন্ধে বুঝতে পারি—বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। আমার স্বামীর স্মৃতি আর সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে।”

লুবিয়া ও বনগাঁও গ্রামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি ৫ লাখ টাকা চোরাচালানি অর্থের লেনদেনকে কেন্দ্র করে লুবিয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম এবং বনগাঁও গ্রামের মানিক মিয়ার ভাই ফজলুল করিমের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এর জেরে শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইছামতী বাজারে ভাঙচুর, দোকানপাট লুট, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং একটি ব্রিজে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। পরে ঢাকা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী শাহিনুর বেগম ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের মামলাকে ভিন্ন খাতে নিতে ও তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে একদল পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। 

ছাতক থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ঘটনার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামিপক্ষের সম্পৃক্ততা আছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্ত চলছে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad