সিলেট ওসমানীতে ওয়ার্ড মাস্টার-স্টাফদের অনিয়মে রোগীদের ভোগান্তি
Led Bottom Ad

সিলেট ওসমানীতে ওয়ার্ড মাস্টার-স্টাফদের অনিয়মে রোগীদের ভোগান্তি

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১০/০৫/২০২৬ ১৯:১৭:৩০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবার বদলে হয়রানি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যেখানে ওয়ার্ড মাস্টার, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও আয়া পর্যায়ের কিছু কর্মচারী জড়িত।


অভিযোগে বলা হয়, এই সিন্ডিকেটের প্রভাব বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে আছে এবং তাদের অনুমতি বা নির্দেশ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।


ভুক্তভোগী একাধিক রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ওয়ার্ডে শয্যা পাওয়া, এমনকি প্রাথমিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।


একজন রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসার আগে নানা ধরনের ঘুরপাক খেতে হয়। কোথায় যেতে হবে, কার সাথে কথা বলতে হবে—সবই যেন অজানা নিয়মের মতো।


অভিযোগে হাসপাতালের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড—যেমন সার্জারি, গাইনি, অর্থোপেডিক ও মেডিসিন ওয়ার্ডে কিছু কর্মচারীর প্রভাব বিস্তারের কথা বলা হয়েছে।


সূত্রের দাবি, কিছু ওয়ার্ডে দায়িত্ব বণ্টন, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং কাজের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ এবং পুনর্নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।


হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, পূর্বে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে ব্ল্যাকলিস্টেড একজন ওয়ার্ডবয় পরবর্তীতে আবারও হাসপাতালে কাজের সুযোগ পান। পরে তিনি কিছু নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে কাজের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলেও দাবি করা হয়।


অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল মালেক খানের বিরুদ্ধে কিছু কর্মচারী ও নার্সদের মাধ্যমে ওয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব বণ্টনে প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কাজের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে একই অভিযোগ ওয়ার্ডবয় লিলু মিয়াসহ তার ঘনিষ্টদের বিরুদ্ধেও। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, কিছু ওয়ার্ডে কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে অনানুষ্ঠানিক চাপ রয়েছে বলে তারা অনুভব করেন। তবে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।


সূত্রের দাবি, অর্থোপেডিক ও সার্জারি ওয়ার্ডে ব্যবহৃত ইমপ্ল্যান্টসহ কিছু চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ।


এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সেলফোনে কল দিলেও অপরপ্রান্ত থেকে সাড়া পাওয়া যায় নি। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হয় এবং হাসপাতালের সেবার মান স্বাভাবিক রাখা যায়।






মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad