সিলেটে হামের ভয়াবহ বিস্তার, হাসপাতালে ২৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন
Led Bottom Ad

বাড়ছে শিশু মৃত্যু

সিলেটে হামের ভয়াবহ বিস্তার, হাসপাতালে ২৯৮ শিশু চিকিৎসাধীন

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

১০/০৫/২০২৬ ১৮:৩৮:১৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিশু জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জটিলতা ও মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হামে মোট ২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।


রোববার (১০ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ৯ মাস বয়সী আকরামুল। সে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অপরজন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৮ মাস বয়সী সাইফান, যিনি শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব কনফার্মড হাম ও রুবেলার রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪২ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪১, সুনামগঞ্জে ৭১, মৌলভীবাজারে ১৬ এবং হবিগঞ্জে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২২ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে—১১৪ জন। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৪ জন। পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগীর চাপ বাড়ছে।


হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শয্যা সংকট চরমে পৌঁছেছে। কোথাও এক বিছানায় দুই থেকে তিন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক অভিভাবককে মেঝেতে অবস্থান করেই সন্তানের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।


একজন অভিভাবক বলেন, “এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু কোথাও বেড মিলছে না। শিশুকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”


চিকিৎসকদের মতে, এবারের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মধ্যে জটিলতা ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে টিকাদানে ঘাটতি এবং দেরিতে হাসপাতালে আনা রোগীদের বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে দুর্বলতা থাকায় সামাজিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অনেক অভিভাবক শুরুতে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করায় রোগ জটিল আকার ধারণ করছে।


সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে এর সুফল দৃশ্যমান হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।


এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, শিশুর জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত টিকাদান ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে সিলেটে হামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad