ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের বেদম মারধরে স্তব্ধ সুনামগঞ্জ
ক্লাস পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো আতঙ্কে। সুনামগঞ্জ সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি কেক নষ্ট হওয়ার অভিযোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহিবুর রহমান আবিরকে নির্মমভাবে মারধর করেছেন সহকারী শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন। শিশুটির কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে পুরো বিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসে শোক-স্তব্ধতা—এ যেন শিক্ষাঙ্গনের বুক চিরে যাওয়া একটি নির্মম ঘটনা। আবির জানায়, ক্লাস পার্টিতে খেলার ছলে কেকের সামান্য অংশ নষ্ট হয়ে যায়। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন।
শিশুটি কান্নাজড়ানো কণ্ঠে বলে—“স্যার আমাকে ইউনিফর্ম খুলে টেবিল মুছতে বলেন। আমি না চাইলে আবারও মারেন। আমার খুব ভয় লাগে।” একটি ১১–১২ বছরের শিশুর মুখে এমন কথা—যে হৃদয়কে নাড়িয়ে না দেয়, সে হৃদয় কি মানুষের?
আবিরের মা পারভিন আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন—“এক টুকরো কেক নষ্ট হওয়ায় কি একটি শিশুকে এমন মারা যায়? আমার ছেলের কান দিয়ে রক্ত বের হয়েছে, সে রাতে ঘুমাতে পারেনি। এখন অসুস্থ পড়ে আছে। সামনে পরীক্ষা—কিন্তু সে বই ধরতেও ভয় পাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, শিক্ষক শুধু নির্যাতনই করেননি—পরে তাকে ফোনে অপমানজনক ভাষাও ব্যবহার করেছেন।
সহকারী শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“কেক নষ্ট করেছে ঠিকই, কিন্তু এরপর কী হয়েছে—এখন কিছু বলতে চাই না।” পরিবারের অভিযোগকে তিনি “আগের রাগ বা ভুল বোঝাবুঝি” বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান খান জানান—“শিক্ষার্থীটি পড়াশোনায় ভালো নয়, নানা ঘটনা ঘটায়। আজ কেক নষ্ট করেছে, স্যার কানে ধরে চর মেরেছেন। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে বাচ্চার কান দিয়ে রক্ত ঝরেছে, যাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে—এটাকে কি শুধু “চর মারা” বলা যায়? পরিবার ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরায় প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করেন—“তাদের ধৈর্য ধরা উচিত ছিল।” কিন্তু যখন একটি শিশুর কান দিয়ে রক্ত পড়ে—একজন মা কতক্ষণ ধৈর্য ধরবে?
আবিরের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা চান। তাদের সোজাসাপ্টা কথা—“আমরা চাই না আমাদের সন্তানদের আর কোনোদিন স্কুলে গিয়ে নির্যাতন সয়ে আসতে হয়।”
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: