‌'বোন মনে করে একটু মায়া দিছিলাম'
Led Bottom Ad

হবিগঞ্জে ছাত্রী শ্লীলতাহানির চেষ্টায় শিক্ষক গ্রেফতার

‌'বোন মনে করে একটু মায়া দিছিলাম'

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১১/০৫/২০২৬ ০০:৪৬:০৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে শ্লী'ল'তা'হা'নি ও ধ/র্ষ/ণে/র চেষ্টার অভিযোগে মোঃ জুবায়ের আহমদ (২৪) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


রোববার (১০ মে) সকালে চুনারুঘাট পৌরসভার ০৮নং ওয়ার্ডের আমকান্দি আবু হুরায়রা নুরানী মাদ্রাসায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।


গ্রেফতারকৃত জুবায়ের বাহুবল উপজেলার রামশ্রী গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে। সে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিল। এদিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের খাঁচায় ঢুকে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপরাধ ঢাকতে যে অদ্ভুত ও হাস্যকর অজুহাত দিয়েছে, তা শুনে খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেই হাসির রোল পড়ে গেছে।


পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো সে সকালে মসজিদে আরবি পড়তে যায়। নিয়মিত শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় আজ বদলী শিক্ষক হিসেবে জুবায়ের আহমদ শিক্ষার্থীদের পাঠদান করায়।


পাঠদান শেষে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জুবায়ের কৌশলে কয়েকজন ছাত্রীকে টিফিন বাটি ধোয়া ও মাদ্রাসা ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে পার্শ্ববর্তী মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। সেখানে অন্য ছাত্রীদের বারান্দায় ও বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে জুবায়ের ওই ছাত্রীকে নিজের রুমে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে সে ছাত্রীকে জাপটে ধরে শ্লী'ল'তা'হা'নি'র চেষ্টা করে এবং জোরপূর্বক ধ/র্ষ/ণে/র উদ্দেশ্যে তার পোশাক খোলার চেষ্টা চালায়।


এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকার এবং বাইরে থাকা সহপাঠীদের ডাকাডাকিতে অভিযুক্ত শিক্ষক জুবায়ের দরজা খুলতে বাধ্য হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি অবগত করে।


ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে আজ চুনারুঘাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জুবায়ের আহমদকে গ্রেফতার করে।


চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান: নাবালিকা ছাত্রীকে শ্লী'ল'তা'হা'নি'র অভিযোগে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আসামিকে গ্রেফতার করেছি। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"


গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত জুবায়ের আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিজের রুমে আটকে রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও, ধ/র্ষ/ণে/র চেষ্টার অভিযোগ ঢাকতে চরম হাস্যাস্পদ যুক্তি দাঁড় করায়। আর সেই উত্তরটি হলো:- একটু বোন মনে করে আমি মায়া দিছিলাম, এটা আমার অনেক অপরাধ হইছে, ভুল হইছে। আমি আর এরকম অপরাধ করতাম না।।


রুমের ভেতর জোরপূর্বক জাপটে ধরাকে জুবায়ের "বোন মনে করে মায়া দেওয়ার" যে অদ্ভুত সংজ্ঞা দিয়েছে, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হাসির খোরাক জোগাচ্ছে। নিজের কৃতকর্মের পক্ষে এমন হাস্যকর অজুহাত দিলেও, আইন যে এই শিক্ষককে সহজে ছাড়ছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত জুবায়ের আহমদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।


ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad