সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকসহ ১২ কর্মকর্তাকে বিবাদী করে সুপ্রিম কোর্টে রিট
Led Bottom Ad

যাদুকাটায় বালু উত্তোলন

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকসহ ১২ কর্মকর্তাকে বিবাদী করে সুপ্রিম কোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৯/১১/২০২৫ ১৮:৫১:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের আদেশ মানা হয়নি—এ অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অবমাননার পিটিশন করা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচরের বাসিন্দা খুরশেদ আলম মঙ্গলবার এ পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি ফাহমিদা আক্তার ও বিচারপতি আতিক হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ পিটিশনটি গ্রহণ করে বিবাদীদের প্রতি ‘কেন মামলা হবে না’—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।


পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে—জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সোয়াদ সাত্তার চৌধুরী, তাহিরপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক, বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনও মেরিনা দেবনাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছাতক চাকমা, সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায়, তাহিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুক আলম শান্তনু, বিশ্বম্ভরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মেরিনা দেবনাথ, তাহিরপুর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন এবং বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মুখলেছুর রহমানকে।


পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, নদীতে তীর কাটা ও ইজারাবিহীন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের ১৯ আগস্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আদালতের আদেশের অবমাননা হয়েছে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যাদুকাটা নদীতে তীর কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত এক মাসে টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে।


এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরুক আলম শান্তনু তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ২৮ দিনে ৫৩টি অভিযানে দুই লাখ টাকা জরিমানা, ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড এবং ৮টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে।


স্ট্যাটাসে বলা হয়, ইজারাবিহীন এলাকায় উত্তোলন ও নিষিদ্ধ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিরুদ্ধে মোকাবিলায় ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে অংশ নেন।


জানা যায়, তাহিরপুর সীমান্তের যাদুকাটা–১ ও যাদুকাটা–২ বালুমহাল এ বছর ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা নেন শাহ্ রুবেল ও নাছির মিয়া। কিন্তু ৮ নভেম্বরের পর কয়েক দিনে নদীর তীর কেটে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।


যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “প্রশাসন প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে। তীর কাটার চেষ্টা হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি নেই।” তিনি জানান, আদালতের নোটিশ তাঁরা এখনো পাননি।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad