নাছির উদ্দিনের মন্তব্যে দিরাই–শাল্লা উত্তাল, প্রতিক্রিয়া শিশির মনিরের
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে নির্বাচনী উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। ৮ ডিসেম্বর, দলের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা পাভেল চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নাছির উদ্দিন বলেন, “আপনারা শিশির মনিরকে যেভাবে দেখছেন, আমি তা দেখি না। সে একজন রাজাকারের ছেলে। এখান থেকে তার নির্বাচিত হওয়া কঠিন। এতদিন কোথায় ছিল, হঠাৎ এসে জনগণকে সেবা দেখানো—এতে মানুষের মন গলবে না।”
নাছির উদ্দিনের এই মন্তব্য দিরাই–শাল্লায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে—সবখানেই আলোচনা চলছে। জাতীয়তাবাদী নেতারা মন্তব্যটিকে সাহসী বলে স্বাগত জানালেও জামায়াতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পাভেল চৌধুরীর উপস্থিতিতে নাছির উদ্দিন তরুণ নেতৃত্বকে উৎসাহ দিয়ে বলেন,“পাভেলের মতো জাতীয়তাবাদী তরুণদেরই এগিয়ে এসে এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তাদের হাতে যেতে হবে।”
নাছির উদ্দিন দাবি করেন, ১৯৭১ সালে দিরাই–শাল্লায় গণহত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে শিশির মনিরের পরিবার জড়িত ছিল।“শিশির মনিরের বাবা, চাচা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রাজাকার বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে নৃশংস কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে।” আবু সুফিয়ানের ‘একাত্তরের সুনামগঞ্জ’ বই অনুযায়ী, শাল্লার কুখ্যাত রাজাকার তালিকায় প্রথম স্থানে আছেন শিশির মনিরের চাচা আব্দুল খালেক মিয়া এবং অষ্টম স্থানে তার বাবা মুকিত মনির।
নাছির উদ্দিনের মন্তব্যের পর শিশির মনির এক ভিডিও বার্তায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অসদাচারসূচক অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি কাদা-ছোড়াছুঁড়ার রাজনীতি চাই না। নির্বাচনের মাঠে প্রতিযোগিতা হোক, কিন্তু অপমান বা কটাক্ষ নয়।”
শিশির মনির আরও বলেন,“আমি সবসময় সম্মান ও আদর্শের রাজনীতির পক্ষে। ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে আমার পরিকল্পনা, নীতি ও কাজের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর শারীরিক অবস্থা ও ভুল বিবৃতি সত্ত্বেও আমি শ্রদ্ধাশীল। তার সুস্থতা কামনা করি।”
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: