নজরদারি বাড়ানোর দাবি পরিবেশবাদীদের
টাঙ্গুয়ার হাওরে সক্রিয় পাখি শিকারিরা: কমছে পরিযায়ী পাখি
শীত মৌসুম শুরু হতেই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ জেলার বিভিন্ন হাওরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাখি শিকারিরা। ফাঁদ পেতে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির পাখি থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পরিযায়ী পাখি। ফলে বছরজুড়ে হাওরে পাখির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, পাখি শিকার বন্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগ এখন জরুরি। প্রশাসন জানিয়েছে— তারা সতর্ক রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বার্ডস ক্লাবের তথ্যমতে, গত এক দশকে সুনামগঞ্জের হাওরে পাখির সংখ্যা ৮৫ শতাংশ কমেছে। ২০১৫ সালে প্রায় ২ লাখ, ২০১৮ সালে ৬০ হাজার, ২০২২ সালে ৩০ হাজার, ২০২৩ সালে ৪৩ হাজার, ২০২৪ সালে মাত্র ২৩ হাজার— যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। স্থানীয়দের মতে, পাখি শিকারিদের উৎপাত, গাছপালা নিধন এবং হাওরে পর্যটকদের অবাধ চলাচলের কারণে পাখির স্বাভাবিক আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বাসিন্দা আহমদ কবির বলেন, “এক সময় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি দেখা যেত। এখন সেসব আর দেখা যায় না। পাখি শিকারিদের উৎপাত এবং আবাসস্থল নষ্ট হওয়াই বড় কারণ।”
তিনি জানান, শীতে টাঙ্গুয়ার হাওরে যে সব দেশি ও পরিযায়ী পাখি আসত, তার মধ্যে পানকৌড়ি, ধুপনি বক, মেটে রাজহাঁস, ছোট-বড় সরালি, খুনতে হাঁস, ফুলুরি হাঁস, গিরিয়া হাঁসসহ অনেক প্রজাতি ছিল— যা এখন আর তেমন দেখা যায় না।
গত রবিবার সদর উপজেলার বারোঘর এলাকার হাওরে গিয়ে দেখা যায়— বিশাল এলাকাজুড়ে কৃষিজমির ওপর সুতোর তৈরি ফাঁদ পেতে রেখেছে শিকারিরা। স্থানীয় কৃষকেরা জানান— প্রতিনিয়ত এই এলাকায় পাখি শিকার চলছে।
সোমবার রাতে ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদরা বিলে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক বাবুই, শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উদ্ধার করে আকাশে অবমুক্ত করে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা ভূমি সহকারি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি জাল ও নানা ধরনের ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, পাখি নিধন রোধে এমন অভিযান চলমান থাকবে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক বলেন,“পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন বাস্তবায়ন জরুরি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।”
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, “গত বছর এক পাখি শিকারি লাইভে এসেছিল। এরপর আর অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পাখি শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসন সতর্ক। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: