১০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
চুনারুঘাটে বন কর্মকর্তাকে মারধর: দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় চোরাই গাছ ও কাঠ বিক্রির নিলাম বন্ধ করে বন কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি ও শ্রমিক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সহকারী বন সংরক্ষক কার্যালয়ের ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদ চুনারুঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫) এবং আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল ইসলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই।
এজাহার অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন রেঞ্জের জব্দ করা ২৯টি লট গাছ ও কাঠের প্রকাশ্য নিলাম শুরু হয়। নিলাম চলাকালে জাহাঙ্গীর আলম ও সাইফুলসহ কয়েকজন নিলাম বন্ধের দাবি করেন এবং নিজেদের নির্দেশনায় নিলাম পরিচালনার চাপ দেন। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই নেতা ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদকে মারধর করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় জাহাঙ্গীর আলম তাঁর পকেট থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং মামলা করলে খুনের হুমকি দেন। পরে সহকর্মীরা আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে পূর্বাঞ্চলে গাছ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ ব্যবস্থা নিতে পারতেন না
অভিযোগ অস্বীকার করে শাম্মি আক্তার বলেন, “ঘটনা ঘটিয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক এক মেয়রের ভাই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ভাইকে জড়ানো হয়েছে।”
জাহাঙ্গীর আলমও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আসল ঘটনা গোপন করেছেন।”
সাইফুল ইসলামের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি কাজে বাধা ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, নিলামকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা সরকারি রাজস্ব ক্ষতি করে এবং জব্দকৃত মালামাল ঝুঁকিতে ফেলে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: