পুলিশের সামনেই চলছে অপরাধ
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন অপরাধীদের ‘নিরাপদ অভয়ারণ্য’
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। চুরি-ছিনতাই, ব্যাগ টানাহেঁচড়া, মাদক কেনাবেচা, পতিতাবৃত্তিসহ নানান অপরাধ এখানে নিয়মিত সংঘটিত হলেও দায়ীরা বেশিরভাগ সময় ধরা–ছোঁয়ার বাইরে থাকছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ যাত্রী ও স্থানীয়দের।
স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবন ও তিনটি প্ল্যাটফরম ঘিরে সক্রিয় রয়েছে ভাসমান বেশ কয়েকটি অপরাধী চক্র। অনেক যাত্রী ছিনতাই বা হয়রানির শিকার হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিযোগ করতে চান না। যারা অভিযোগ করেন, তারাও অধিকাংশ সময় প্রতিকার পান না বলে জানান স্থানীয়রা।
১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় ভাসমান মানুষের ভিড়। উঠতি বয়সী ৪–৫ জন যুবক হাতবদলের মাধ্যমে কী যেন লেনদেন করছেন। ওভারব্রিজের ওপরে দাঁড়িয়ে দেখা যায়—প্রকাশ্যেই গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। চা বিক্রেতা, জুতা পালিশকারী ও বিভিন্ন ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে থাকা কয়েকজনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। রিকশাচালক ও কম আয়ের মানুষসহ অনেককে এসব মাদক কিনতে দেখা যায়।
২ নম্বর প্ল্যাটফরমের পাশে মোবাইল টাওয়ারের নিচে রেলওয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরগুলোকে ভাসমান পতিতা, মাদকসেবী, হিজড়াসহ নানা ধরনের অপরাধীরা আখড়া হিসেবে ব্যবহার করছে। এখান থেকেই ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক সহজে পাওয়া যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
‘সেবক’ ও ‘মলম’ পার্টি নামে একটি চক্র দূরপাল্লার যাত্রীদের বিশেষভাবে টার্গেট করছে। নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা এদের মূল শিকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “স্টেশনে বহু ধরনের অপরাধী ঘোরাফেরা করে। ভিক্ষাবৃত্তি, যাত্রী হয়রানি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি—সবই চলে পুলিশের চোখের সামনেই। মাঝে মাঝে কাউকে ধরলেও পরে ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজে নেমে পড়ে।”
যাত্রী ও স্থানীয়দের দাবি—নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: