মাধবপুরে নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ, ঘরছাড়া দুই পরিবার
Led Bottom Ad

মাধবপুরে নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ, ঘরছাড়া দুই পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১৩/১২/২০২৫ ২০:০৩:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার শান্তিপাড়া এলাকায় কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অন্তত দুটি পরিবারকে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শীতের শুরুতেই এতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর (রোববার) দুপুর দেড়টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই এক্সকাভেটর দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।


ভুক্তভোগী মৃত এনাম খাঁন বাবুলের স্ত্রী ফয়জুন্নাহার বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন তাঁরা এবং নিয়মিত পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘হঠাৎ করে এসে ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, মালামাল সরানোরও সুযোগ পাইনি। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। আমাদের একটাই দাবি—পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।’


আরেক ভুক্তভোগী হেলেনা বেগম বলেন, ‘শীতের মধ্যে শিশুদের নিয়ে রাস্তায় পড়ে আছি। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।’


সেলিমা বেগম ও পলি আক্তারসহ আরও কয়েকটি পরিবারও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, কোনো সরকারি নোটিশ দেখানো হয়নি এবং উচ্ছেদের আগে প্রস্তুতির সময় দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।


এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ হতে পারে। তবে কোনো নোটিশ বা সময় না দিয়ে হঠাৎ ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া মানবিকতার পরিপন্থী।


এ বিষয়ে সওজের স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। নোটিশ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।


হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, ‘সওজের জায়গা থেকে সওজ উচ্ছেদ করতেই পারে। তবে ভুক্তভোগীদের আবেদন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে।’


এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad