হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়ক: ১৬ কিলোমিটারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
Led Bottom Ad

হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়ক: ১৬ কিলোমিটারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১৪/১২/২০২৫ ১৬:০৭:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং সংস্কারের অভাবে হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়কটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করে, কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ ও গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সেই গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি করে। অন্তঃসত্ত্বা, বয়স্ক রোগী বা জরুরি মালামাল বহনকারী যানবাহন প্রায়ই সড়কের এই ভাঙাচোরা অংশে আটকে বা উল্টে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে।


শহরের কামড়াপুর এলাকা থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ২০০১ সালে নির্মাণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় সড়কটি নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে।


স্থানীয়রা জানান, সড়কের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে, প্রতিদিনকার চলাচলই হয়ে উঠেছে এক অনিশ্চিত যাত্রা। অটোরিকশা, মিনিবাস, মোটরসাইকেল, টমটম, মিশুক, জিপসহ অসংখ্য যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। পাথারিয়া, আনোয়ারপুর, মক্রমপুর, হিয়ালা, কাবিলপুর, নিশ্চিন্তপুর, আগুয়া, কাউরাকান্দি, টুপিয়াজুড়ি, বিজয়পুর, পইলারকান্দি, শ্রীমঙ্গল, বিথঙ্গল, মর্দনপুর, মাখনিয়া, উত্তর-দক্ষিণ সাঙ্গর, কুমড়ি, মন্দরি, দুলালপুর, রাজানগর, ভাগতলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম ও মিটামইন উপজেলার একাংশের মানুষ এই সড়কের উপর নির্ভরশীল।


অটোরিকশাচালক মনির মিয়া বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত সড়কটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে প্রতিদিন যাতায়াতের সময় চরম উদ্বিগ্ন হতে হয়।” কলেজছাত্র আমান উল্লাহ জানান, “সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় ঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে পৌঁছানোও দায় হয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কারের আশা করছি।” আব্দুল আলী নামে এক স্থানীয় বলেন, “রোগী নিয়ে আসা-নেওয়ার সময় এই সড়ক চরম সমস্যা তৈরি করছে। জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।”


এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, “সড়কটি সংস্কারের জন্য সদরদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় মেরামত করা হবে।”


স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার না হলে এই ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পুরো অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে। প্রতিদিনকার যাতায়াত যেন মৃত্যুর ঝুঁকিতে পরিণত না হয়—এটাই তাদের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad