হুমকির মুখে পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা
নবীগঞ্জে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দিনের আলোতেই, প্রশাসনের নাকের ডগায় কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ভয়াবহ তৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সুবেদ মিয়া দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এই অবৈধ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
এ ছাড়া কসবা গ্রামের এশাফর মিয়া, রাসেল মিয়া, ছাবু মিয়া ও সুনাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তারা নদী থেকে নির্বিচারে মাটি ও বালু লুট করছে। প্রশাসনের অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যাওয়ায় অভিযানের সময় মূল হোতারা ধরা পড়ে না। বিভিন্ন স্থানে পাহারার জন্য দৈনিক মজুরিতে লোক নিয়োজিত রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কুশিয়ারা নদীর চর ও মূল স্রোত থেকে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সুবেদ মিয়ার নেতৃত্বে একের পর এক ট্রাকে করে এসব মাটি নিকটবর্তী হাফিজ ব্রিক ফিল্ডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই অবৈধ বহন কার্যক্রম। ফলে ইনাতগঞ্জ-চরগাঁও সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সুবেদ মিয়া নদী লুটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অবৈধ আয়ের টাকায় একাধিক ট্রাক ও গাড়ির মালিক হয়েছেন তিনি। তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, এই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।
নদীবিদ ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে লাগামহীন বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে কুশিয়ারা নদীর চর ধ্বংস হচ্ছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে নদীভাঙন, ফসলি জমি নষ্ট হওয়া ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা করে এই সিন্ডিকেটকে থামানো যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: