হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ
হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও পত্রিকা অফিসে হামলা-ভাঙচুর
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক শরিফ উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। হাদি হত্যার প্রতিবাদে হবিগঞ্জের ছাত্র-জনতার ব্যানারে ব্লকেড ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
জুমার নামাজ শেষে কোর্ট মসজিদের সামনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কোর্ট মসজিদ থেকে শুরু হয়ে শহরের চিড়িয়াকান্দি এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্লগার সুশান্ত দাসের মালিকানাধীন ‘দৈনিক আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকা অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তবে পত্রিকাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালায়। এসময় কার্যালয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরালে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরপর বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে পুনরায় বিক্ষোভ করেন। সেখানে তারা হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মী ও যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম সুজন বলেন, “হাদি ভাইকে যেভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ঘটনার সাত দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সারাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।”
আরেক ছাত্রনেতা মাহদি হাসান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হবে।”
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: