হবিগঞ্জে সরকারি গাড়ি পাওয়ার আগেই তেল বিল উত্তোলন!
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি গাড়ির তেল খরচ উত্তোলনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শান্তনু আচার্যের বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে এসব অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য কোনো গাড়ির বরাদ্দ কার্যকর হওয়ার আগেই তেল খরচ দেখিয়ে বিল উত্তোলন শুরু করেন ওই কর্মকর্তা। অথচ ওই সময় পর্যন্ত তাঁর নামে কোনো সরকারি গাড়ি বরাদ্দের আদেশ কার্যকর ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৮ মার্চ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের জন্য সাদা রঙের মিৎসুবিশি এল–২০০ মডেলের একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে গাড়িটি চালানোর জন্য চালক নিয়োগ দেওয়া হয় প্রায় তিন মাস চার দিন পর, গত ২২ জুন।
তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির জন্য চালক নিয়োগের আগেই চার মাসের তেল খরচ একসঙ্গে উত্তোলন করা হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—চালক ছাড়াই কীভাবে সরকারি গাড়ি চলেছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার এক দিন আগের তারিখ (১৭ মার্চ) থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য তেল খরচ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতি মাসে ১৪১ লিটার করে ডিজেল ধরা হয়, লিটারপ্রতি ১০৫ টাকা দরে মাসিক বিল হয় ১৪ হাজার ৮০৫ টাকা। চার মাসে মোট বিল দাঁড়ায় ৫৯ হাজার ২২০ টাকা।
এই বিল থেকে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সাড়ে ৭ শতাংশ ও আয়কর ৫ শতাংশ বাবদ মোট ৮ হাজার ৮৮৩ টাকা কেটে নেওয়ার পর ৫০ হাজার ৩৩৭ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে বিলের তারিখ ও বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখলে অসংগতি স্পষ্ট বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, এ ধরনের অনিয়ম সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শান্তনু আচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলবেন বলে জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, চালক ছাড়া সরকারি গাড়ি চলার কথা নয়। বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দেখবেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: