চুনারুঘাটে রেমা-কালেঙ্গা ওয়াচ টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে পর্যটকেরা
Led Bottom Ad

চুনারুঘাটে রেমা-কালেঙ্গা ওয়াচ টাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে পর্যটকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুনারুঘাট

২৫/১২/২০২৫ ১০:৫৯:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অন্যতম আকর্ষণ পাঁচতলা ওয়াচ টাওয়ারটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় টাওয়ারটির পিলার ক্ষয়ে যাচ্ছে, দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একাধিক স্থানে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পর্যটকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টাওয়ারে ওঠার প্রধান পথটি ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। দূর থেকে বোঝার উপায় নেই কোথা দিয়ে ওপরে উঠতে হবে। সিঁড়ির বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল, কোথাও আবার অংশবিশেষ ভেঙে পড়ে আছে। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রেলিংও নেই। অনেক পর্যটক জানান, ওপরের দিকে উঠতেই টাওয়ারটি দুলছে বলে অনুভূত হয়।

সিলেট থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সায়েম আহমেদ বলেন, “রেমা-কালেঙ্গার ওয়াচ টাওয়ারের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু কাছে গিয়ে ভাঙা পিলার আর বের হওয়া রড দেখে ওপরে ওঠার সাহস পাইনি। মনে হচ্ছিল, একটু বাতাস এলেই ভেঙে পড়বে।”

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক হাফসা তানজীম বলেন, “সিঁড়িতে পা রাখতেই পুরো টাওয়ারটা নড়ছে মনে হচ্ছিল। কোথাও ধরার মতো রেলিং নেই। বাচ্চাদের নিয়ে ওঠার প্রশ্নই আসে না।”

আরেক পর্যটক হুমায়ুন কবির বলেন, “টাওয়ারে ওঠার পথই যখন খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন বোঝা যায় রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা কতটা নাজুক। দুর্ঘটনা হলে দায় নেবে কে?”

প্রায় ১ হাজার ৭৯৫ হেক্টর আয়তনের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ি ও রশিদপুর—এই চারটি বিট নিয়ে গঠিত। এখানে রয়েছে ৬০০–এর বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম। হরিণ, বানর, চিতল, বনবিড়াল, হনুমানসহ নানা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এই বন। পাশাপাশি বিরল প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবেও পরিচিত।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ইকো-ট্যুরিজম জোনের প্রধান আকর্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পর্যটকদের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে।

চুনারুঘাটের স্থানীয় পর্যটনকর্মী মাসুদ রানা বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে। তাদের প্রথম প্রশ্ন—টাওয়ারে ওঠা যাবে কি না। অনেকেই ভয় পেয়ে ফিরে যান। বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংস্কার জরুরি।”

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বছরের পর বছর ধরে টাওয়ারটির এই অবস্থা চলছে। কেউ গুরুত্ব না দেওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।”

পর্যটন উদ্যোক্তা নাসির উদ্দিন বলেন, “দ্রুত সংস্কার না হলে পর্যটকেরা অন্য গন্তব্য বেছে নেবে। একটি দুর্ঘটনা হলে দেশের পর্যটন খাতই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

এ বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। ওয়াচ টাওয়ারটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad