সুনামগঞ্জে থমকে আছে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ, উৎকণ্ঠায় কৃষকরা
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে থমকে আছে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ, উৎকণ্ঠায় কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২৮/১২/২০২৫ ১১:৫৮:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৭৭টি ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। নিয়ম রক্ষার আনুষ্ঠানিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর বালিজুড়ি ইউনিয়নের আঙ্গারুলি হাওরে দুটি বাঁধের কাজ উদ্বোধন করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো অগ্রগতি নেই। অধিকাংশ প্রকল্পে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনও এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কয়েকটি হাওরে পানি জমে থাকায় বাঁধের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সুনামগঞ্জ জেলার মাত্র একটি হাওরে এ ধরনের সমস্যা থাকলেও অন্য হাওরগুলোর কাজ কেন শুরু হয়নি—সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট করে কথা বলছেন না।

নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। অনেকেই সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় এক পরিবেশকর্মী ও তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতা জানান, যাদুকাটা নদীসহ বিভিন্ন বালুমহাল ও সরকারি জলমহাল ইজারায় অনিয়ম, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং প্রশাসনের উদাসীনতার বিষয়ে জনপ্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—ফসল রক্ষা বাঁধের কাজেও বড় ধরনের অনিয়ম হলে তার বিচার পাওয়া যাবে না। তাদের মতে, ফসল নষ্ট হলে জীবিকা রক্ষার কোনো বিকল্প থাকবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭৭টি বাঁধের মধ্যে ৭৫টির কাজ এখনো শুরু হয়নি। বাকি দুটি প্রকল্পে কেবল সৌজন্য রক্ষার উদ্বোধনী কার্যক্রম হয়েছে। হাওরবাসীর একাংশ জানান, বাঁধের গোড়ায় পানি কিছুটা কমলেও মাটি এখনো নরম রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় কাদামাটি থাকায় খননযন্ত্র নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে পিআইসি গঠন কেন বিলম্বিত হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, “শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, বর্ধিত গুরমার হাওর ও মহালিয়া হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে।”

আঙ্গারুলি হাওরের একটি ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের সভাপতি খলিল মিয়া বলেন, “বৃহস্পতিবার আমাদের প্রকল্পে মাটি কাটার মেশিন এসেছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।”

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ৯৫টি হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার বাঁধ এলাকায় ৫১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, “হাওর এলাকায় পানি কমে আসলেই ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।”

এদিকে সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তাহিরপুরের কৃষকরা।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad