সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনেই হিসেব পাল্টে দিতে পারে বিদ্রোহীরা
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনেই হিসেব পাল্টে দিতে পারে বিদ্রোহীরা

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮/১২/২০২৫ ১৪:০৬:৩৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তায় সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই ভোটের হিসেব পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিএনপির একাধিক মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় হাওরবেষ্টিত এই জেলায় বিদ্রোহের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


জেলা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের সবকটি থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত অন্তত পাঁচ নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের পক্ষে কর্মী-সমর্থকরাও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।


এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ২ জন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ২ জন এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে একজন,সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ৫ জন ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনে একজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোট বিভাজনের মাধ্যমে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।


সবশেষ বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। যদিও এ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। এবার মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর অনুসারীরা দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।


মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমার পক্ষে নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা চাচ্ছেন আমি যেন প্রার্থী হই।”


সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।


সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল। তবে এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল মনসুর মোহাম্মদ শওকত এবং প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুল হক আসপিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার আবিদুল হক।


ব্যারিস্টার আবিদুল হক বলেন, “আমার বাবা এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। আমি নির্বাচন করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আগামী ২৯ তারিখ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”


আবুল মনসুর মোহাম্মদ শওকত জানান, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।


অন্যদিকে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতি বৈষম্য দূর করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঠে নামা শুধু বিএনপির জন্য নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা নাকি বিদ্রোহ—কোনটি প্রাধান্য পায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সুনামগঞ্জবাসী।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad