দুই নবজাতকের মৃত্যু
তীব্র শীতে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর ঢল, একদিনে ভর্তি ২১৯
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হবিগঞ্জ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে একদিনে ভর্তি হয়েছে ২১৯ শিশু। এতে হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম চাপ। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২২ জন, যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি শিশুদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অর্ধশতাধিক শিশু স্ক্যানু (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা) ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পর্যাপ্ত বেডের অভাবে অনেক শিশু ও স্বজনদের হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান করতে হচ্ছে।
শীতজনিত জটিলতায় গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জেলাজুড়ে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা নেমে আসায় দুর্ভোগে পড়েছেন দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা কাজ করতে পারছেন না, ফলে জীবিকা সংকটে পড়েছেন অনেকে।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল হক সরকার বলেন, “শিশু ও প্রবীণরা শীতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি শিশু ও নবজাতকদের শীত থেকে সুরক্ষিত রাখতে গরম কাপড় পরানো, হালকা গরম পানিতে গোসল করানো এবং ধুলাবালি ও ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে শিশু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: