দিরাইয়ে পিআইসি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
Led Bottom Ad

কাজ কম, বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

দিরাইয়ে পিআইসি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩১/১২/২০২৫ ১৬:৩৩:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একই প্রকল্পে কাজের পরিমাণ কমলেও বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে।


সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের ৭০ নম্বর পিআইসি প্রকল্প (আলিপুর বেরিবাঁধ) এ গত বছর বরাদ্দ ছিল ১৪ লাখ টাকা। চলতি বছরে সেই প্রকল্পেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৩ টাকা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর কাজের পরিমাণ কমপক্ষে ৬০ শতাংশ কম হয়েছে।


বিশেষ করে ‘আলিপুরের কাল’ এলাকায় মাত্র ২০০ মিটার বাঁধ সংস্কার কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আরসিসি ঢালাই ও মাটির কাজ দেখিয়ে পুরোনো বাঁধের ওপর সামান্য প্রলেপ দিয়েই বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।


এই অনিয়মের পেছনে দিরাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের বলয় তৈরি করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে শাল্লা ও নেত্রকোনায় কর্মরত থাকাকালেও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত ছিলেন।


এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলায় পিআইসি কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হলেও দিরাই উপজেলার তালিকা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করে অনিয়ম ঢাকতেই এই তালিকা গোপন রাখা হয়েছে।


চরনারচর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১ লাখ টাকার কাজ কাগজে ৩ লাখ টাকা দেখানো হচ্ছে। কাজের চেয়ে লুটপাটই বেশি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষায় বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’


দিরাই উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিরাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘গতকাল জেলা পর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এটি মূলত সার্ভের একটি ভুল ছিল। আজই আমরা তা সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছি।’

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad