কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ
সুনামগঞ্জে হত্যা মামলার জেরে তিন বছর ধরে অনাবাদি ২০ একর জমি
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হওয়ায় গত তিন বছর ধরে অনাবাদি পড়ে আছে প্রায় ২০ একর ফসলি জমি। একই সঙ্গে একটি মাছের হ্যাচারীর মাছ লুট ও বসতঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সংঘর্ষে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও গ্রামের মৃত রজন আলীর ছেলে হারুন রশীদকে আসামি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। মামলার পরপরই হারুন রশীদের মাছের হ্যাচারীর মাছ ও বসতঘর লুট করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তিনি ও তাঁর স্বজনরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি পড়ে থাকে তাদের ফসলি জমি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে হ্যাচারী ও বসতঘর।
সরেজমিনে ঘোড়াডুম্বুর মৌজার জেএল নম্বর ৮৮-এর খতিয়ান নম্বর ৩৯২ ও ৪১০ পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ২০ একর ফসলি জমি চাষাবাদ ছাড়াই পড়ে আছে। এলাকাবাসী জানান, হত্যা মামলার পর থেকেই হারুন রশীদের পরিবারের কেউ এলাকায় থাকেন না। ফলে জমি ও হ্যাচারী পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
হারুন রশীদের ভাই আব্দুর রশীদ বলেন, “আমাদের গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমার বাবা এই মৌজায় ২০ একর জমি ক্রয় করেন। আমরা সবসময় গ্রাম্য কোন্দনের বাইরে ছিলাম। কিন্তু সম্পত্তির লোভে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বড় ভাইকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ঘটনার পর আমাদের হ্যাচারীর মাছ ও ঘরবাড়ি লুট করা হয়। এখন আমার ভাই জামিনে থাকলেও গ্রামের আকিক মেম্বার গংদের কারণে নিজের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।”
গ্রামের মুরব্বি আব্দুল গফুর বলেন, “হারুন রশীদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। মূলত তার সম্পদ দখলের জন্যই প্রতিপক্ষ এই কাজ করেছে। আমরা চাই নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকুক।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ আকিক মিয়া বলেন, “আমরা কখনোই তার জমি চাষাবাদে বাধা দেইনি। হারুন রশীদ হত্যা মামলার আসামি থাকায় দীর্ঘদিন গ্রামে আসতে পারেননি। আমরা কারো সম্পত্তি লুট করিনি। সে জমি চাষ করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। থানায় ডেকে এ বিষয়েও আমরা একই কথা জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ অলি উল্লাহ বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। সবাই জানিয়েছে, হারুন রশীদ তার জমিতে চাষাবাদ করলে কেউ বাধা দেবে না। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অরাজকতা সহ্য করা হবে না।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: