সুনামগঞ্জের জামাইপাড়ায় চালু হলো ‘মানবতার দেয়াল’
শীতের কাঁপুনি, অন্ধকার রাত আর অনাহারের তীব্রতা—এইসবের মাঝেই জামাইপাড়া এলাকায় শুরু হলো ‘মানবতার দেয়াল’, যেখানে দরিদ্র ও শীতার্ত মানুষ পাবেন উষ্ণতা আর সহানুভূতির স্পর্শ।
স্থানীয় সেবামূলক সংস্থা সুনাম মানবিক সংগঠন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেয়ালের মূল ধারণা সহজ: “আপনার অপ্রয়োজনীয় কাপড় এখানে রেখে যান, আর যারা তা প্রয়োজন তাদের জন্য তা থাকুক।”
২ জানুয়ারি সরজমিনে দেখা যায়, দেয়ালে ঝুলছে সারি সারি জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদর এবং শিশুদের পোশাক। বিত্তবানরা তাদের অব্যবহৃত কাপড় দান করছেন, আর শীতের কাঁপুনি থেকে মুক্তি চাইতে মানুষ সেগুলো হাতের নাগালে পাচ্ছেন। ছোট্ট এই দেয়াল হয়ে উঠেছে দাতার মমতা ও গ্রহীতার আশা—একটি সংবেদনশীল সেতুবন্ধন।
সুনাম মানবিক সংগঠনের একজন প্রতিনিধি বলেন, “মানবতা সেই দীপ্তি, যা অন্ধকারেও আলো দেয়। আমাদের আশা, কেউ যেন শীতের রাতে কাপড়ের অভাবে কাঁপতে না হয়। একজনের সামান্য দান অন্যের রাতকে উষ্ণ করতে পারে।”
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে সদ্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। পথচারী ও বাসিন্দাদের কথায়, এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা জাগায়। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, শুধু জামাইপাড়া নয়, সুনামগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠুক এমন ‘মানবতার দেয়াল’।
শীতের এই মুহূর্তে, মানবতার এই ক্ষুদ্র দীপ্তি এখন হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের জীবনে আশার আলো।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: