পশুর প্রতি নির্মমতা
সুনামগঞ্জে থানায় চুরি হওয়ার ভয়ে নদীতে রাখা হয় ৩১টি গরু, ঠান্ডায় মৃত্যু!
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে থাকা ৩১টি গরু নদীতে ভাসমান অবস্থায় রাখার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চোরাই গরু সন্দেহে জব্দ করা এসব গরু থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে রাখলে চুরি হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত নদীতেই রাখার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তীব্র শীত, খাবার সংকট ও অযত্নে একাধিক গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সুরমা নদীপথে অভিযান চালিয়ে একটি নৌকাসহ ৩১টি গরু জব্দ করে সদর থানা পুলিশ। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গরুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকলেও সেগুলো নদীতে ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তীব্র শীতে পানির ওপর থাকার কারণে অসুস্থ হয়ে অন্তত ৬টি গরু মারা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, মৃত গরুর সংখ্যা ৯ থেকে ১০টি হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত গরুগুলো রাতের আঁধারে নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, গরুগুলোর পর্যাপ্ত খাবার ও সঠিক পরিচর্যার ব্যবস্থা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন যুবক দিনে দুই বেলা মাত্র ১০ কেজি ভুসি দিয়ে কয়েকদিন গরু খাওয়ানোর কথা জানিয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ওই যুবকের পাওনা টাকা না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে ওসি রতন শেখ বলেন, “আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত গরুগুলো নদীতেই থাকবে। থানা বা ফাঁড়িতে রাখলে বড় গরুগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে। গরু মারা গেলে এখন কিছু করার নেই।” তিনি দাবি করেন, নিজের টাকা দিয়ে খাবার ও লোক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, “গরুগুলো রাখার উপযুক্ত জায়গার সংকট রয়েছে। তবে গরু চুরি হয়ে যাবে—এভাবে বলা ঠিক নয়। আমরা গরুগুলোর মৃত্যু ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও পশুর প্রতি নির্মমতার উদাহরণ হিসেবে
এ রহমান
মন্তব্য করুন: