সুনামগঞ্জে সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রি, কৃষকরা সংকটে
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দুর্গম হাওরের বোরো চাষীরা সরকারি সার পাচ্ছেন না। জানা গেছে, কিছু দুর্নীতিবাজ ডিলার বিএডিসি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারে বিক্রি করছেন।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি বরাদ্দের সার ২০ দিন ধরে ঘাটে পড়ে থাকার পরও কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুদাম থেকে সরাসরি ট্রাক ও নৌকায় সার উত্তোলন করা হচ্ছে, যা নিয়ম ভঙ্গ। অভিযোগ রয়েছে, ধান চাষে ব্যবহৃত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার কৃষক পর্যায়ে দেওয়া হওয়ার পরিবর্তে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হোসেন বলেন, “শাল্লা শতভাগ বোরো এলাকা। আমাদের কৃষকরা সার সংকটে ভোগছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ডিলাররা কালোবাজারে বিক্রি করছেন, যার ফলে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে।”
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “সরকারি সার ও বীজের মৌসুমে কৃষকরা প্রায়ই সঠিক সময়ে বরাদ্দ পান না। ঘাট থেকে সরাসরি কালোবাজারে বিক্রি হওয়ার ঘটনায় ডিলার, বিএডিসি ও অধিদপ্তরের কিছু দুর্নীতিবাজ চক্র জড়িত।”
অপরদিকে, সুনামগঞ্জ বিএডিসির সহকারী উপপরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সরকারি বরাদ্দের সার সরাসরি ডিলারকে দেওয়ার সময় শ্রমিক সমস্যা থাকায় মাঝে মাঝে গুদামে স্টক করা সম্ভব হয় না। তবে স্টক রেজিস্ট্রার ও ক্যাশমেমো রাখা হয়, অনিয়মের দায় আমাদের নেই।”
শাল্লা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, “কিছু ডিলার সরকারি বরাদ্দ মিসম্যানেজ করেছে। প্রমাণ পেয়ে শোকজ করেছি। তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: