সুনামগঞ্জে ২০ দিনেও শুরু হয়নি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
Led Bottom Ad

নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

সুনামগঞ্জে ২০ দিনেও শুরু হয়নি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৫/০১/২০২৬ ১২:৫৫:৫৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। গত ১৫ ডিসেম্বর নিয়ম রক্ষার উদ্বোধন হলেও পরবর্তী ২০ দিনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে হাওর থেকে পানি না নামার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে কৃষক ও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার একাধিক হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের ভাঙা বদ্ধকরণ ও মেরামতের জন্য অধিকাংশ এলাকাই প্রস্তুত রয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরের একাংশ এবং তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোনো প্রস্তুতিই চোখে পড়েনি। যদিও এসব হাওরের কিছু অংশ দিয়ে পানি নেমে গেছে এবং অধিকাংশ প্রাক্কলিত বাঁধ এলাকায় কাজের উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিক পিআইসি অধ্যুষিত শাল্লা ও ধর্মপাশা ছাড়াও মধ্যনগর, তাহিরপুর, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ বহু উপজেলায় এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কোথাও কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি।

নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু কাজ শুরু তো দূরের কথা, অনেক উপজেলায় এখনো পিআইসি গঠনই সম্পন্ন হয়নি। এতে কৃষক ও হাওর সচেতন মহলে শঙ্কা বাড়ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এ বছর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। প্রাক্কলিত ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১০৪টি ক্লোজার (ভাঙা অংশ) রয়েছে। প্রতি বছর হাওরের ফসল ও কৃষকের নিরাপত্তায় সরকার বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিলেও সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।

ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওর পাড়ের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন,

“আমরার হাওরে এখনও বাঁধের কাজ শুরু হয় নাই। সময়মতো কাজ করলে মাটি ভালো বসে, বাঁধ শক্ত হয়। শেষ সময়ে তাড়াহুড়া করলে বাঁধ দুর্বল থাকবে, পানির ধাক্কা খেলেই ভেঙে যাবে।”

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়া জানান, এখনো বাঁধের কাজের সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের পিআইসি নম্বর সম্পর্কেও তারা অবগত নন।

শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন,

“১৫ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর কোনো হাওরেই কাজ শুরু হয়নি। শাল্লার ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প রয়েছে। এখনো পিআইসি গঠন নিয়েই তদবির চলছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জের সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন,

“হালির হাওর ঘুরে যা দেখেছি, তাতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কখন কাজ শুরু হবে, কখন শেষ হবে—কিছুই নিশ্চিত নয়। এতে শেষ পর্যন্ত কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এ বিষয়ে কাবিটা প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন,

“অনেক বাঁধেই কাজ শুরু হয়েছে, হাওরে মেশিন ঢুকেছে। দু-একদিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু হবে।”

তিনি আরও জানান, চার-পাঁচটি পিআইসির গঠন এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব উপজেলায় পিআইসি গঠন শেষ হয়েছে দাবি করে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন,

“হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনও পানি নামছে। এ কারণেই কাজে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।”

হাওরাঞ্চল একফসলি এলাকা হওয়ায় এখানকার বোরো ধানই কৃষকের একমাত্র ভরসা। কাজের এই ধীরগতিতে আগাম বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষক ও হাওর সচেতন মহল।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad