বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
লাফার্জের কনভেয়ার বেল্টের শব্দদূষণে অতিষ্ঠ ১০ গ্রামের মানুষ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ শব্দদূষণের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ছাতকের লাফার্জহোলসিম (সুরমা সিমেন্ট) কারখানায় চুনাপাথর পরিবহনে ব্যবহৃত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কনভেয়ার বেল্টের বিকট শব্দে এলাকাটি যেন এক ‘উন্মুক্ত বন্দিশালায়’ পরিণত হয়েছে।
উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের কালাপশী, শ্যামারগাঁও, রগারপাড়, তেরাপুর, উত্তর নেতরছই, চারওয়াদ্দী, শ্রীপুর (আংশিক), পূর্ব ঘিলাতলী, বাংলাবাজার ইউনিয়নের রামশায়ের গাঁও, মির্ধারপাড়া ও ঘিলাতলী এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত এই যান্ত্রিক শব্দের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেল্ট চালু হলে স্বাভাবিক কথাবার্তাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আধুনিক কনভেয়ার ব্যবস্থায় শব্দরোধী আবরণ বাধ্যতামূলক হলেও এখানে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে শব্দের মাত্রা অনুমোদিত সীমার কয়েক গুণ বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ৬০ ডেসিবেলের বেশি শব্দে থাকলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। এলাকাবাসীর মধ্যে মানসিক চাপও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
শ্যামারগাঁও গ্রামের আব্বাস উদ্দীন বলেন, “আগে সব শুনতাম, এখন কানে সারাক্ষণ ভোঁ-ভোঁ করে।”
রগারপাড় গ্রামের মাওলানা ইউনুস আলী জানান, শিশুদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এক স্কুল শিক্ষক বলেন, বেল্ট চলাকালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
পরিবেশ আইন ও শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় শব্দের মানমাত্রা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও স্থানীয়রা কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখছেন না।
নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন বলেন, শুরু থেকেই দাবি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট লিমিটেডের হেড অব কমিউনিকেশনস তৌহিদ উল ইসলাম জানান, পুরনো বেল্ট পরিবর্তন ও স্থায়ী শব্দরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে দুই কিলোমিটার এলাকায় শব্দদূষণ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই উদ্যোগ কি দ্রুত পুরো এলাকাকে স্বস্তি দেবে, নাকি ১০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘ হবে?
এ রহমান
মন্তব্য করুন: