তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধে বাড়তি বরাদ্দ, লুটপাটের আশঙ্কা
Led Bottom Ad

তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধে বাড়তি বরাদ্দ, লুটপাটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৫/০১/২০২৬ ১১:২১:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ছোট-বড় ২৩টি হাওরের ফসল রক্ষায় ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এসব প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ গত বছর একই খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি বছর প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাঁধগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি না থাকলেও এই বাড়তি বরাদ্দকে ভালো চোখে দেখছেন না হাওরপাড়ের সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে অতিরিক্ত বরাদ্দ মূলত লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্যই দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ বাঁধ প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড নেই। ফলে প্রকল্পের নাম, ব্যয়, সময়সীমা কিংবা সংশ্লিষ্ট পিআইসির তথ্য জানার কোনো উপায় নেই। পাশাপাশি অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

হাওরপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোক দেখানোভাবে পিআইসি গঠন করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণশুনানি ছাড়াই এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক-দুটি ইউনিয়নে সীমিত আকারে গণশুনানি হলেও বেশিরভাগ এলাকাতেই তা হয়নি। তাদের দাবি, বরাদ্দের অঙ্ক অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা ফসল রক্ষার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কারণ, গত বছর পাহাড়ি ঢলের তেমন চাপ না থাকায় বাঁধের বড় কোনো ক্ষতিও হয়নি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তাহিরপুর উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আড়াইশ’ কোটি টাকার বেশি ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ পর্যায়ে।

কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাহিরপুরে এখনো ৪৬টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। যদিও উপজেলায় মোট ৮৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে ৪০টির কাজ চলমান বলে দাবি করছে পাউবো। তবে পাউবোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মিল নেই বলে অভিযোগ হাওর নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, “পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। অনেক জায়গায় পুরনো মাটিকে শুধু ঘষামাজা করে কাজ দেখানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলোতে এখনো কাজ শুরু হয়নি। এমনকি অনেক পিআইসি সদস্য সচিব জানেনই না তাদের দায়িত্ব কী—তাদের নাম ব্যবহার করে অন্যরা কাজ করছে। তাহিরপুরে ভাড়াটিয়া পিআইসির তথ্যও পাওয়া গেছে।”

তিনি মধ্যনগর, ধর্মপাশা, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, শান্তিগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর বাঁধের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।

শনির হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া ও আরিফ মিয়া বলেন, সময়মতো বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় ফসল রক্ষা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক জামিল মিয়া ও জহির মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, “চারা রোপণ শেষ হলেও এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। এক ফসলি জমির ধানই আমাদের জীবিকার একমাত্র ভরসা। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হলে সামান্য ঢলেই বাঁধ ভেঙে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, “বন্যা না হলেও বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রেট শিডিউলের মূল্য বৃদ্ধি, নতুন অ্যালাইনমেন্ট তৈরি, হাওরের পরিধি বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ায় চলতি বছর বরাদ্দ বেশি এসেছে।”

কাজ শুরুর বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক স্থানে এখনো পানি রয়েছে। পানি নামলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে ৪০টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad