তাহিরপুরে বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি: ঝুঁকির মুখে হাওরের বোরো ফসল
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে বোরো ফসল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। নির্ধারিত সময়সীমার প্রায় অর্ধেক পার হয়ে গেলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ায় আগাম বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরপাড়ের মানুষ।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার সর্ববৃহৎ মাটিয়ান হাওরে অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কাজ সম্প্রতি শুরু হলেও তার গতি অত্যন্ত মন্থর। বিশেষ করে বনুয়ার হাওর ও বোয়ালমারা দক্ষিণ সাইট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের কাজ এখনও শুরুই হয়নি। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কাজ ফেলে রাখায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, উপজেলার ৮টি হাওরে এ বছর মোট ৮৮টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারের বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ৭৪ দিনের নির্ধারিত মেয়াদে ইতোমধ্যে ৪৫ দিন অতিবাহিত হলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪১ শতাংশ। বাকি ২৮ দিনে অবশিষ্ট ৫৯ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক দিলসাদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "অন্যান্য বছর এই সময়ে কাজ প্রায় শেষ হয়ে যায়। এবার মাটির অজুহাত দিয়ে কাজ শুরু করতেই দেরি করা হয়েছে। এখন যদি হুট করে পাহাড়ী ঢল নামে, তবে আমাদের সারা বছরের খোরাক পানির নিচে তলিয়ে যাবে।"
তাহিরপুর উপজেলার পাউবো উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন কাজের ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, "মাটি সংকট এবং কিছু এলাকা এখনও জলমগ্ন থাকায় কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। ৫টি পিআইসি এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে আমরা তদারকি বাড়াচ্ছি এবং আশা করছি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ হবে।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির সংকটকে অযুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু পিআইসি সময়ক্ষেপণ করছে। কৃষকরা অবিলম্বে সব প্রকল্পের কাজ পূর্ণোদ্যমে শুরু করার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: