সুনামগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং: সেচ সংকটে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার নন-হাওর এলাকার কৃষকরা সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পেরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বোরো আবাদের এই ভরা মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প মালিক ও কৃষকরা অলস সময় পার করছেন। কোথাও কোথাও দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও তা সেচের জন্য অপর্যাপ্ত বলে দাবি করছেন চাষিরা।
পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষক রনি মিয়া জানান, "বোরো ধানের জন্য এখন নিয়মিত পানি প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। সময়মতো পানি না দিলে ফলন বিপর্যয় ঘটবে।" একই উদ্বেগের কথা জানান রাজাপুর গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া। তিনি বলেন, "চাহিদা মতো বিদ্যুৎ না থাকায় জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে।"
গাছতলা বাজার এলাকার সেচ পাম্প মালিক আবু বক্কর বলেন, "বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায় তার কোনো ঠিক নেই। কৃষকরা আমাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা নিরুপায়।"
ধর্মপাশা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে সেচ মৌসুমের গুরুত্ব বিবেচনায় কৃষি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, লোডশেডিংয়ের ফলে সেচ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনি রায় বলেন, "কৃষি সেচ আমাদের অগ্রাধিকার খাত। লোডশেডিংয়ের কারণে যেন কৃষকদের বোরো আবাদ ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
এ রহমান
মন্তব্য করুন: