ফাগুন আসার আগেই পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান
Led Bottom Ad

ফাগুন আসার আগেই পর্যটকে মুখর শিমুল বাগান

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০১/০২/২০২৬ ১৫:৩৭:১৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী গান এখনো বাজেনি, শাখাগুলোতেও রক্তরাঙা শিমুল ফুল পুরোপুরি ফোটেনি; তবুও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ‘আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান’। দেশের বৃহত্তম এই শিমুল বাগানে ফাল্গুনের আগাম আভা দেখতে এখনই ভিড় জমাচ্ছেন শত শত প্রকৃতিপ্রেমী।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী সপ্তাহ থেকেই বাগানের আড়াই হাজার শিমুল গাছে ফুল পুরোদমে ফুটতে শুরু করবে। তখন দূর থেকে দেখলে মনে হবে—সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে যেন আগুনের লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই বাগানে শিমুলের আসল রূপ উপভোগ করা যায়।

​সরেজমিনে গত শুক্রবার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বসন্ত আসার আগেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সিলেট থেকে আসা পর্যটক রহিমা জান্নাত বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা অনুন্নত হলেও এখানে এসে সব ক্লান্তি ভুলে গেছি। মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষে শিমুল গাছের এই সারি সত্যিই অপূর্ব।” আরেক পর্যটক সম্পা রায় বলেন, “এক পাশে ভারতের খাসিয়া পাহাড়, অন্য পাশে যাদুকাটা নদী আর মাঝে এই বিশাল বাগান—এমন দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।”

যেভাবে গড়ে উঠল এই বাগান:

২০০২ সালে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বৃক্ষপ্রেমী মরহুম আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন শখের বসে ৩৩ একর বালুভূমিতে এই বাগানের গোড়াপত্তন করেন। সে সময় বালুচরে গাছ বেঁচে থাকা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করলেও তাঁর নিরলস পরিশ্রমে আজ এটি এশিয়ার অন্যতম বড় শিমুল বাগানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ছেলেরা বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।

পর্যটক সুযোগ-সুবিধা:

বাগান মালিকের ছেলে ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে বাগানে ওয়াশরুম, চেঞ্জিং রুম এবং একটি ক্যান্টিন স্থাপন করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের বসার জন্য আধুনিক বেঞ্চ, শিশুদের জন্য দোলনা এবং একটি আধুনিক রেস্ট হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। যাতায়াত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

ভ্রমণ টিপস: কীভাবে যাবেন?

  • ঢাকা থেকে: সায়েদাবাদ বা মহাখালী থেকে বাসে সরাসরি সুনামগঞ্জ (ভাড়া ৫৫০–৬৫০ টাকা)।
  • সুনামগঞ্জ থেকে: আব্দুর জহুর সেতু থেকে মোটরসাইকেল বা সিএনজি যোগে লাউড়ের গড় বা সরাসরি শিমুল বাগান (ভাড়া জনপ্রতি ২০০–২৫০ টাকা)।
  • প্রবেশ ফি: বর্তমানে বাগানে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকেট কাটতে হয়।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad