শান্তিগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধে ধস: দেখার হাওরের বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকরা
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ‘ছাইয়া কিত্তা’ ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে। এতে হাওরপাড়ের হাজার হাজার কৃষকের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অধীনে নির্মাণাধীন এই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেখা যায়, ১৮৮১ মিটার দীর্ঘ এই বাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে মহাসিং নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে ড্রেজার দিয়ে নদী ও বাঁধের পাশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বাঁধে ২৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পুরনো ক্ষত মেরামত না করেই তড়িঘড়ি করে বাঁধ নির্মাণ করায় প্রতি বছরই এখানে ধস নামছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরেও একই স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
১৮ নম্বর পিআইসি’র সাধারণ সম্পাদক সুন্দর আলী জানান, তাঁদের প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ছাইয়া কিত্তা অংশে হঠাৎ ধস শুরু হয়েছে। এই অংশটি আগে তাঁদের প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও এখন নতুন করে মেরামত করতে হচ্ছে। প্রকল্পের সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, “মহাসিং নদীর পানি কমে যাওয়ায় পাড়ে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মাটি ধরে রাখা যাচ্ছে না। আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল হুমকির মুখে পড়বে।”
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মী ও কৃষকদের দাবি, কেবল মাটি ফেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বাঁধের সুরক্ষায় অবিলম্বে গাছের ভল্লি ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে ডাম্পিং করা জরুরি। অন্যথায় আগাম বন্যায় বাঁধ ভেঙে দেখার হাওরের ১২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শীঘ্রই সার্ভে টিমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: