শান্তিগঞ্জে নীতিমালা লঙ্ঘন করে জলমহাল শুকিয়ে মাছ নিধন: সংকটে বোরো চাষ
Led Bottom Ad

শান্তিগঞ্জে নীতিমালা লঙ্ঘন করে জলমহাল শুকিয়ে মাছ নিধন: সংকটে বোরো চাষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিগঞ্জ

০৫/০২/২০২৬ ১১:২৮:১৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

​সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ইজারা নীতিমালা ও মৎস্য আইন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জলমহাল শুকিয়ে নির্বিচারে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকায় ‘পাখিমারা ও রামগুটা জলকরপুঞ্জ’ জলমহালে সেচপাম্প বসিয়ে এই নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে ইজারাদার সমিতি। এতে দেশীয় মাছের বংশ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি হাওরের শত শত একর বোরো ফসলি জমিতে মারাত্মক সেচ সংকট দেখা দিয়েছে।

​অভিযুক্ত ইজারাদার প্রতিষ্ঠান হলো ‘বীরগাঁও খালপাড় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইজারাদারদের দাপটে সাধারণ জেলে ও কৃষকরা এখন কোণঠাসা। বাধা দিলে উল্টো মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

​সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে ১০৭ একর আয়তনের এই জলমহালটি শুকিয়ে মাছ ধরছেন ইজারাদারের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান ও তাঁর ছেলে সাদিকুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দিনে-রাতে সেচপাম্প চালিয়ে পানি সেচা হচ্ছে। এমনকি বিষ প্রয়োগ করে কাদা থেকে মাছ ধরার মতো ভয়ানক কাজও করা হচ্ছে।

​কৃষক মহিবুর রহমান বলেন, “আমরা কৃষক, আমাদের কথা কেউ শোনে না। প্রতি বছর এই বিল শুকানো হয়। এবারও সেচপাম্প বসিয়ে বিল শুকানোয় আমরা জমিতে পানি দিতে পারছি না। পানি নিতে গেলে ইজারাদারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে আসে।”

​ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী, তিন বছরে একবার অন্তত পাঁচ ফুট পানি রেখে জাল দিয়ে মাছ ধরার বিধান থাকলেও লিজ নেওয়ার প্রথম বছর (১৪৩০ বাংলা) থেকেই মৎস্য আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এছাড়া মা মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ ও খননের শর্ত থাকলেও তার কোনোটিই মানছে না এই সমিতি। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির অধিকাংশ সদস্যই প্রকৃত জেলে নন; রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা জলমহালটি দখলে রেখেছেন।

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাদিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এর আগে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, কৃষকরা তাঁর বিলের পানি দিয়েই চাষাবাদ করছেন।

​শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমি সরেজমিনে জলমহালটি পরিদর্শন করেছি। ইজারাদারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেচপাম্প ব্যবহার করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলমহাল শুকিয়ে মাছ ধরার কোনো বিধান নেই; প্রয়োজনে ইজারা বাতিল হতে পারে।”

​শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad